আইন আদালত

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ২ ঘণ্টার মধ্যে জামিন সিমিন রহমানের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২১ এএম

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ২ ঘণ্টার মধ্যে জামিন সিমিন রহমানের
ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান ও তাঁর মা মিসেস শাহনাজ রহমান। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি বুধবার দুপুর ২টায় ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহর আদালত এ মামলায় ছয় আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত না থাকায় সিমিন রহমান, শাহনাজ রহমান এবং ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক সামসুজ্জামান পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরোয়ানা জারির পর একই দিন বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সিমিন রহমান ও তাঁর মা কালো বোরকা ও মুখ ঢেকে ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকা বন্ডে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, ওই দিন মামলার অপর তিন আসামি—ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক এবং আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক—আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের আইনজীবীরা স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে ২ ফেব্রুয়ারি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিমিন রহমানের ছোট বোন শাযরেহ হক গুলশান থানায় এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ১১ জানুয়ারি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যেখানে সিমিন রহমানসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

চার্জশিটে বলা হয়, ২০২০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সকম লিমিটেডের একটি বোর্ড মিটিংয়ের কাগজপত্র তৈরি করে সেখানে ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল তথ্য ব্যবহার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই তথাকথিত বোর্ড মিটিংয়ে লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ৬০০টি শেয়ার তাঁর সন্তানদের মধ্যে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দেখানো হয়, যার মধ্যে সিমিন রহমান একাই ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার নিজের নামে নেন। তবে মামলার বাদী শাযরেহ হকের দাবি, ওই তারিখে কোনো বৈধ বোর্ড মিটিংই অনুষ্ঠিত হয়নি।

তদন্তে আরও উঠে আসে, বোর্ড মিটিংয়ের আগে কোনো ইমেইল, ডাকযোগে নোটিস কিংবা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আরজেএসসিতে (যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর) জমা দেওয়া শেয়ার হস্তান্তরের কাগজপত্রেও গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা-কোনো পক্ষই আরজেএসসিতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। এছাড়া ভুয়া স্ট্যাম্প এফিডেভিট ব্যবহার করে পারিবারিক ডিড অব সেটলমেন্ট তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও ডাক বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যবহৃত দুটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে সৃজন করা, যা মামলার অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

উচ্চমূল্যের শেয়ার আত্মসাৎ ও জালিয়াতির এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর দ্রুত জামিন পাওয়াকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে আইনি ও করপোরেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।