আইন আদালত
রাজনৈতিক ১০০৬টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ১০০৬টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বার্তায় বলা হয়, বিগত সরকারের ১৭ বছরে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ১০০৬টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলাগুলো প্রত্যাহারের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দায়ের করা মামলাগুলো নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এসব মামলাকে ‘হয়রানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হচ্ছিল। বর্তমান সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই দাবির আংশিক বাস্তবায়ন হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যাচাই-বাছাই শেষে এসব মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, যে মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের হয়েছিল এবং যেগুলোতে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা আইনি ভিত্তি নেই- সেসব মামলা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আবেদন ও শুনানির পর চূড়ান্তভাবে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় থাকবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এ সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে এবং সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তালিকা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মী দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পাবেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রও প্রসারিত হবে।
উল্লেখ্য, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।