আইন আদালত

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্য ছিলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

একই মামলায় পলাতক সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আবু সাঈদ ছিলেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ এবং তার হত্যাকাণ্ড বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তদন্তে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলেও জানান প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউটর মঈনুল করিম জানান, মামলায় ২৫ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং নিহতের বাবা মকবুল হোসেন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে পুলিশের বাধার মুখে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় আবু সাঈদকে প্রথমে গুলি করেন এএসআই আমির হোসেন। পরে কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় পরপর গুলি করলে তিনি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

মামলার শুনানিতে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন, যেখানে অভিযুক্তদের অবস্থান ও ভূমিকা তুলে ধরা হয়। যুক্তিতর্ক শেষে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

গত বছরের ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে ৬ আগস্ট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

উল্লেখ্য, এ মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছেন এবং বাকি ২৪ জন পলাতক।

এই রায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার এবং প্রসিকিউশনের ফেসবুক পেজে লাইভ দেখানোর কথা জানানো হয়েছে।