লাইফস্টাইল

রান্নার সময় যে ভুল হতে পারে ক্যান্সারের কারণ


লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১০ এএম

রান্নার সময় যে ভুল হতে পারে ক্যান্সারের কারণ
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি।

রান্না করা বা পোড়া তেল পুনরায় ব্যবহার করার অভ্যাস একটি প্রচলিত রীতি। মাছ ভাজার তেল দিয়ে ঝোল রান্না করা কিংবা লুচি ভাজার তেল দিয়ে ডিম-আলু ভাজা; এই 'মিতব্যয়ী' অভ্যাসটিকেই সম্প্রতি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর প্রকাশিত নির্দেশিকা এই অভ্যাস থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছে।

cooking1_Dhakaprokash.jpg

ট্রান্স-ফ্যাট থেকে ক্যান্সার-

বিশেষজ্ঞদের মতে, একই তেল বারবার গরম করলে এর রাসায়নিক গঠনে মারাত্মক পরিবর্তন আসে। তেলের মধ্যে থাকা ফ্যাটের কণাগুলো ভেঙে গিয়ে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি করে।

‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া’ (FSSAI) স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো তেল তিন বারের বেশি গরম করা উচিত নয়। এর বেশি ব্যবহার করলেই ট্রান্স-ফ্যাট (Trans-Fat) তৈরির আশঙ্কা থাকে।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোড়া তেল থেকে ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল, অ্যালডিহাইড এবং পলি সাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের মতো বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়। এই ফ্রি-র‌্যাডিক্যালগুলো অনেক সময় কার্সিনোজেনিক (ক্যান্সারের কারণ) হতে পারে, যা শরীরের সুস্থ কোষ এবং ডিএনএ-এর ক্ষতি করে।

cooking2_Dhakaprokash.jpg

যেসব মারাত্মক রোগ হয়-

বারবার একই তেলে রান্না করা খাবার গ্রহণ করলে শরীরে একাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগ বাসা বাঁধতে পারে। যেমন-

হৃদ্‌রোগ ও কোলেস্টেরল: পোড়া তেলে রান্না করা খাবার শরীরে ক্ষতিকর ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ ও খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ধমনীতে চর্বি জমে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।

প্রদাহ ও হজমের সমস্যা: পোড়া তেলের বিষাক্ত রাসায়নিক শরীরের অভ্যন্তরে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এর ফলে অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, পেটের গন্ডগোল, বদহজম এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

cooking3_Dhakaprokash.jpg

আলঝেইমার্স ও পারকিনসন্স: কিছু গবেষণায় জানা গেছে, পোড়া তেল বারবার ব্যবহারের কারণে অ্যালঝেইমার ডিজিজ, পারকিনসন্স ডিজিজ-এর মতো স্নায়ুজনিত সমস্যাও দেখা যেতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, শুধু বাড়ির হেঁশেলেই নয়, বাইরের তেলেভাজার দোকানগুলোতেও অনেক সময় দিনের পর দিন একই তেল ব্যবহার করা হয়। তাই বাইরের মুখরোচক খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রেও ক্রেতাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখতে এবং ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগ এড়াতে ব্যবহৃত তেল পুনরায় রান্নায় ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। সম্ভব হলে অল্প তেলে রান্না করা বা কম তাপমাত্রায় ভাজা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।