লাইফস্টাইল

পিঠা-পুলিতে রাঙা শীত, শীতেই কেন পিঠার আমেজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:১২ পিএম

পিঠা-পুলিতে রাঙা শীত, শীতেই কেন পিঠার আমেজ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় উপমহাদেশে পিঠা খাওয়ার প্রচলন অনেক প্রাচীন। বাংলা ভাষায় লেখা কৃত্তিবাসি রামায়ণ, অন্নদামঙ্গল, ধর্মমঙ্গল, মনসামঙ্গল, চৈতন্য চরিতামৃত ইত্যাদি কাব্য এবং মৈমনসিংহ গীতিকায় কাজল রেখা গল্পকথনের সূত্র ধরে আনুমানিক ৫০০ বছর আগেও বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতিতে পিঠার জনপ্রিয়তার উল্লেখ পাওয়া যায়।

যেহেতু প্রাচীন বইপুস্তকে পিঠার উল্লেখ আছে, কাজেই ধরে নেওয়া যায় পিঠা খাওয়ার প্রচলন বাঙালি সমাজে অনেক প্রাচীন। তবে শীতকালে পিঠা খাওয়ার প্রচলন সবচেয়ে বেশি। মূলত, শীতে নতুন ধান ঘরে ওঠার পর পিঠা তৈরির ধুম পড়ে, যা পৌষ সংক্রান্তিতে নবান্ন উৎসবের সাথে যুক্ত। অনেকে সারা বছর ধরে ডিসেম্বর মাসের জন্য অপেক্ষা করেন। কবে ডিসেম্বর আসবে আর কবে শীত আসবে।

mojaa.jpg
শীতের পিঠা 

ডিসেম্বরে সাধারণত পরীক্ষা শেষ হয়। শীতের মধ্যে পড়ে বছর শেষের ছুটি। বেড়াতে যায় অনেকে। আত্মীয়বাড়িতে আপ্যায়ন হয় ধুমধাম করে। শীতের সকালে গরম গরম ধোঁয়া ওঠা পিঠার স্বাদ অনন্য এবং এই সময়ে বানানো হয় ভাপা পিঠা, চিতই, পাটিসাপটা, পুলি, দুধ পুলি বা দুধ চিতই, মালপোয়া, নকশিপিঠার মতো হরেক ধরনের পিঠা। 

আবার শীতকালে পাওয়া যায় খেজুরের রস। অনেকেই গাছ থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করে তা দিয়েও তৈরি করে বাহারি সব পিঠা। খেজুরের গুড়ও পিঠা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এই দুই মিলে শীতকাল ঋতুটা হয়ে যায় পিঠা উৎসবের ঋতু, যা বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ এবং সামাজিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তোলে। সারাদিনই চলে পিঠার আয়োজন, চিরচেনা এইসব দৃশ্য যেন শীতকালের মূল ঘটনা। এছাড়াও, রাস্তার পাশে দেখা যায় শত শত মানুষের ভিড়।

shiter pitha 3.jpg
শীত এলেই নানান বাহারি পিঠার আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত

কিন্তু শীত এলেই কেন পিঠার আয়োজন করা হয়? এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন কারণ যেমন :

নতুন ফসল ও নবান্ন : বাংলা মাস অগ্রহায়ণ ও পৌষে নতুন ধান ওঠে, যা থেকে চাল তৈরি হয়। এই নতুন চাল দিয়েই নবান্ন উৎসবের পিঠা তৈরি হয়।
বিশেষ স্বাদ: শীতকালের সকালে গরম ভাপে তৈরি পিঠার স্বাদ এবং ধোঁয়া অন্য সময়ে পাওয়া যায় না।
সামাজিক ঐতিহ্য : পিঠা-পুলি তৈরি ও খাওয়া বাঙালির সামাজিক রীতিনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।
খেজুরের গুড় : শীতকালে খেজুরের রস পাওয়া যায়, যা দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠার গুড় ও ক্ষীর। এটিও পিঠার স্বাদকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
ঐতিহ্যবাহী উৎসব : পৌষ সংক্রান্তির মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো পিঠা।

pitha.jpg
শীত এলেই নানান বাহারি পিঠার আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত

পিঠা-পুলি আমাদের লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই প্রকাশ। আমাদের হাজারো সমস্যা সত্ত্বেও গ্রামবাংলায় এসব পিঠা-পার্বণের আনন্দ-উদ্দীপনা এখনো মুছে যায়নি। পিঠা-পার্বণের এ আনন্দ ও ঐতিহ্য যুগ যুগ টিকে থাকুক বাংলার ঘরে ঘরে, অপেক্ষা থাকুক শীতের।