লাইফস্টাইল
হার্ট সুস্থ রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৫ পুষ্টিকর খাবার
হার্ট ভালো রাখতে শুধু নিয়মিত ফল ও শাকসবজি খাওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং কোন ধরনের খাবার খাওয়া হচ্ছে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।
গবেষকদের মতে, সব ফল ও শাকসবজির পুষ্টিগুণ এক নয়। ফলে অনেকেই নিয়ম মেনে এসব খাবার গ্রহণ করলেও শরীরে ‘ফ্ল্যাভানল’ নামের গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্লুবেরি, প্লাম, ব্ল্যাকবেরি, ব্রড বিনস (এক ধরনের শিম) ও চেরির মতো খাবার এবং এর সঙ্গে গ্রিন টি পান করলে শরীরে ফ্ল্যাভানলের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় জানা গেছে, নিয়মিত ফল ও শাকসবজি খাওয়ার পরও অনেকের শরীরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফ্ল্যাভানল পাওয়া যায়নি। বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘ফুড অ্যান্ড ফাংশন’-এ প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজনই দৈনিক প্রয়োজনীয় ৫০০ মিলিগ্রাম ফ্ল্যাভানল গ্রহণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
ফ্ল্যাভানল এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি রক্তনালিকে নমনীয় রাখে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং হার্ট সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণের পাশাপাশি তাদের শরীরের বায়োমার্কার পরীক্ষা করে ফ্ল্যাভানল গ্রহণের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
গবেষক ডা. হাভিয়ের ওতাভিয়ানি জানান, খাদ্যতালিকায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই এই উপকারী উপাদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। তার মতে, শুধু বেশি ফল ও শাকসবজি খেলেই সব পুষ্টি পাওয়া যায় না বরং সঠিক খাবার নির্বাচন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একইভাবে ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অধ্যাপক গুন্টার কুনলে বলেন, প্রতিদিন ফল ও শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ এখনও প্রাসঙ্গিক, তবে কোন খাবারগুলো বেছে নেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।
গবেষণায় আরও যেসব খাবারে তুলনামূলক বেশি ফ্ল্যাভানল পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে আপেল, স্ট্রবেরি, ক্র্যানবেরি ও পিন্টো বিনস।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ফ্ল্যাভানল রক্তচাপে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন কিছু প্রমাণ থাকলেও এটি সরাসরি হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় এমন শক্ত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
এছাড়া ফল ও শাকসবজিতে ফ্ল্যাভানলের পরিমাণ উৎপাদন পদ্ধতি, পরিবেশ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। ব্যক্তিভেদে শরীরের প্রতিক্রিয়াও আলাদা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট সুস্থ রাখতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ফল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।