সাহিত্য

হুমায়ূন আহমেদের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৫, ০৪:৪২ পিএম

হুমায়ূন আহমেদের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
হুমায়ূন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য আকাশ—হুমায়ূন আহমেদ। আজ সেই কথাসাহিত্যিকের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেন তিনি। রেখে গেছেন তার অসামান্য সাহিত্যকীর্তি, সিনেমা, নাটক আর অগণিত পাঠক-ভক্তকে।

এই উপলক্ষে আজ শনিবার গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে আয়োজন করা হয়েছে দোয়া মাহফিল, ফাতেহা পাঠ এবং সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মতো নানা কর্মসূচি। নুহাশপল্লীর তত্ত্বাবধায়ক সাঈফুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে প্রিয় হুমায়ূন আহমেদকে।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। বাবা ফয়েজুর রহমান ছিলেন শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা, মা আয়েশা ফয়েজও লেখালেখি করতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা দিয়েই পেশাজীবন শুরু করলেও তার প্রকৃত ভালোবাসা ছিল লেখালেখি ও সৃষ্টিশীলতায়।

১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’, যার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে নতুন এক ধারার সূচনা করেন হুমায়ূন আহমেদ। এরপর ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘দেয়াল’, ‘মাতাল হাওয়া’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় উপন্যাস উপহার দেন তিনি।

তিনি শুধু লেখক ছিলেন না, ছিলেন চরিত্রের কারিগরও। হিমু, মিসির আলী আর শুভ্র—এই তিনটি চরিত্র আজও তরুণ প্রজন্মের কল্পনায় জীবন্ত। তার লেখার সহজ, সরল ভাষা ও মানবিক দর্শন পাঠকের মনে দাগ কেটে গেছে চিরকাল।

সাহিত্য ছাড়াও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন এক অসাধারণ টিভি নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। আশির দশকের ‘এইসব দিনরাত্রি’ ধারাবাহিক নাটক দিয়ে ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। পরবর্তীতে ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’ সহ বহু জনপ্রিয় নাটক লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন।

চলচ্চিত্রে তার অবদানও বিস্ময়কর। ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র সমালোচক ও দর্শক—উভয়ের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য হুমায়ূন আহমেদ পেয়েছেন একুশে পদক (১৯৯৪), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা। তবে তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—পাঠকের ভালোবাসা।