জাতীয়

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ ড. ইউনূসের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫, ০৩:৫৭ পিএম

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ ড. ইউনূসের
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ৩২ হাজার শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এসব পদে দ্রুত সময়ের মধ্যে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষার মান, শূন্য পদে নিয়োগ, বদলি নীতিমালা এবং শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামোসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা স্কুলগুলোর মান সম্পর্কে জানতে চান এবং কোন বিদ্যালয়গুলো ভালো করছে, তার একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন চেয়ে নির্দেশনা দেন।

প্রাথমিক শিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বৈঠকে জানান, “শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে, তবে শিক্ষার মান বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা স্কুলগুলোকে র‍্যাংকিং করছি। যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আছে, সেগুলোর জন্য বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্ব ও সহকর্মীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ভালো, সেখানে শিক্ষার মানও ভালো। বর্তমানে প্রায় ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, যা শিক্ষাব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুত পদায়ন ও নতুন নিয়োগের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ শিক্ষকদেরও সুযোগ দিতে হবে। একাধিক ক্যাটাগরি তৈরি করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্যদের বাছাই করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে অতিদ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নীতিমালা তৈরির নির্দেশও দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এক উপজেলায় নিয়োগ পেয়ে অনেক শিক্ষক সুপারিশ ও তদবিরের মাধ্যমে শহর বা সুবিধাজনক এলাকায় বদলি হন। এটি বন্ধে একটি সুস্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া থাকতে হবে।”

বৈঠকে স্কুল ভবন নারীবান্ধব কি না, সেই বিষয়েও জানতে চান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “স্কুল নির্মাণ পরিকল্পনায় একজন নারী স্থপতিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেন স্কুলগুলো বাস্তবিক অর্থেই মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক হয়।”

তিনি দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর বিষয়েও জোর দেন। এর মাধ্যমে শিশুদের আধুনিক ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সার্বিকভাবে এই বৈঠকে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী, মানসম্পন্ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন ড. ইউনূস। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।