জাতীয়

বোনের মৃত্যুর পর স্মৃতি হয়ে গেলো ভাই নাফিও


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫, ০৮:৩৫ এএম

বোনের মৃত্যুর পর স্মৃতি হয়ে গেলো ভাই নাফিও
ছবি: সংগৃহীত

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় একে একে ঝরে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাণ। বোনের পর এবার মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হলো ভাই নাফিও (৯)। সে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু নাফি। এর আগে গতকাল রাত তিনটার দিকে তার বোন নাজিয়া মৃত্যুবরণ করে। নাজিয়া তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ভাই-বোন দু’জনেই উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করত।

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "নাফির শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এত ছোট একটি শিশুর পক্ষে এ ধরনের ইনজুরি সহ্য করা সম্ভব হয়নি। রাতেই আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।"

উল্লেখ্য, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বহুজন। দগ্ধদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই ছিল আশঙ্কাজনক।

এ পর্যন্ত বার্ন ইনস্টিটিউটে ১১ জন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষিকা মাসুকা, যিনি সোমবার দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়াও মঙ্গলবার ভোররাতে ৯ বছরের আরেক শিশু বাপ্পিও মৃত্যুবরণ করে। তার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

মধ্যরাতে আরও চারজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়, যাদের শরীরের অধিকাংশই পুড়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে এরিকসনের শরীরের ১০০ শতাংশ, আরিয়ানের ৮৫ শতাংশ, সায়ান ইউসুফের ৯৫ শতাংশ এবং নাজিয়ার ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

এর আগে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক প্রাণ হারান। তারা হলেন: অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ, সপ্তম শ্রেণির আফনান ফাইয়াজ, প্রাইমারি সেকশনের হেড কো-অর্ডিনেটর মাহেরীন চৌধুরী এবং ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ সামিন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো দেশে। স্কুলটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষ শোকাহত ও ক্ষুব্ধ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে—এমনটাই এখন সবার প্রার্থনা।