জাতীয়

সরকারি চাকরিজীবীরা আন্দোলন করলে বাধ্যতামূলক অবসর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫, ০৩:৫৭ পিএম

সরকারি চাকরিজীবীরা আন্দোলন করলে বাধ্যতামূলক অবসর
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলনে জড়ালে তাদের বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরিচ্যুতির মুখে পড়তে হবে—এমন বিধান যুক্ত করে ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার।

বুধবার (২৩ জুলাই) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

নতুন সংশোধনে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি তার সহকর্মীকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে চাপ সৃষ্টি করেন, কিংবা নিজেও আন্দোলনের মাধ্যমে কাজ থেকে বিরত থাকেন—তবে তা “সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ” হিসেবে গণ্য হবে এবং এজন্য তাকে (ক) নিম্নপদে অবনমিত, (খ) বাধ্যতামূলক অবসর, বা (গ) চাকরি থেকে বরখাস্ত—এই তিনটির যেকোনো এক বা একাধিক শাস্তি দেওয়া যাবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগ গঠন করে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেবে অভিযুক্ত কর্মচারীকে। তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। চাইলে রাষ্ট্রপতির নিকট ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করা যাবে এবং সেটাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও অধ্যাদেশে "আন্দোলন" শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করা হয়নি, কিন্তু “সমবেতভাবে কাজ থেকে বিরত থাকা” এবং “অন্যকে কর্তব্য থেকে বিরত রাখতে চাপ সৃষ্টি করা”—এই শব্দচয়ন আন্দোলনকেই ইঙ্গিত করছে।

২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনকে অধিকতর শক্তিশালী করতে এই অধ্যাদেশ সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।