জাতীয়
পুলিশ কর্মকর্তাদের তদবিরে ‘লাগাম’ টানল সরকার, ৭ জরুরি নির্দেশনা
সরকারি কাজে অহেতুক তদবির ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য কড়া বার্তা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পদোন্নতি, বদলি বা ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের জন্য সচিবালয়ে ছুটে যাওয়া ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সরাসরি যোগাযোগের প্রবণতায় বিরক্ত হয়ে সম্প্রতি পুলিশ সদস্যদের ৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছে জননিরাপত্তা বিভাগ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে সম্প্রতি পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশের কিছু সদস্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই দফায় দফায় সচিবালয়ে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে ব্যক্তিগত বিষয়ে তদবির করছেন। এতে নীতি-নৈতিকতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এসব তদবির শুধু পদোন্নতি বা বদলিতেই সীমাবদ্ধ নয়; অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে—পুলিশ সদস্যরা অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করছেন এবং অসম্পূর্ণ প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন। এর ফলে বিভ্রান্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি এড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭টি নির্দেশনা দিয়ে তা কঠোরভাবে অনুসরণ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো:
১. অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ নয়: কোনো পুলিশ সদস্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অফিস সময়ের মধ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।
২. তদবির বন্ধ করতে হবে: পদোন্নতি, বদলি বা অন্য কোনো বিষয়ে সচিবালয়ে এসে অপ্রয়োজনীয় তদবির করা যাবে না।
৩. সম্পূর্ণ প্রস্তাব পাঠাতে হবে: যেকোনো বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর ক্ষেত্রে তা যথাসময়ে এবং তথ্যপূর্ণ হতে হবে।
৪. বহিঃ বাংলাদেশ ছুটির প্রস্তাব নিরীক্ষণ করে পাঠাতে হবে: বিদেশ ভ্রমণের জন্য ছুটির আবেদন করলে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যাচাই করতে হবে।
৫. চিকিৎসাজনিত ছুটিতে মেডিকেল প্রতিবেদন আবশ্যক: চিকিৎসাজনিত কারণে বিদেশে যেতে চাইলে বিশেষজ্ঞ বোর্ডের প্রত্যয়নপত্র ও চিকিৎসা প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
৬. আন্তঃমন্ত্রণালয় যোগাযোগে নিয়ম মানতে হবে: ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুসরণ করে যথাযথ পদ্ধতিতে চিঠি পাঠাতে হবে।
৭. জেমস আইডি হালনাগাদ রাখতে হবে: প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে নিজ নিজ জেমস আইডিতে লগ ইন করে তথ্য হালনাগাদ রাখতে হবে।
মন্ত্রণালয় বলছে, এই নির্দেশনাগুলো অবহেলা করা হলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কিছু বিষয়ে শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো ও সঙ্গে সঙ্গে তা বাস্তবায়নের চাপ তৈরি করায় প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়। এতে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।