জাতীয়

নির্বাচনের তারিখ কি জুলাই সনদের আগেই! সিদ্ধান্তে দ্বিধায় রাজনৈতিক মহল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৫, ০৮:২০ এএম

নির্বাচনের তারিখ কি জুলাই সনদের আগেই! সিদ্ধান্তে দ্বিধায় রাজনৈতিক মহল
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, জুলাই সনদের খসড়া আজ সোমবারের (২৮ জুলাই) মধ্যে দেশের সব রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরপর সকল মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সনদ প্রকাশ করবে কমিশন।

তবে এরই মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে—এই সনদ প্রকাশের আগেই কি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে, নাকি সনদের পরেই ঘোষণা আসবে? জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই সনদের আগে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সম্ভাবনা খুবই কম। যদিও রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের সময়সূচি জানতে আগ্রহী।

গত শনিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৪টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) এর চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, "প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি ঘোষণা করবেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে দেশে চলমান অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে নির্বাচনই একমাত্র পথ।"

তবে তিনি আরও বলেন, "ঘোষণাটি জুলাই সনদের আগেও হতে পারে, আবার পরেও হতে পারে—এটা খুব বড় কোনো বিষয় নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রধান উপদেষ্টা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।"

বৈঠকে নির্বাচন প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “পতিত ও পরাজিত শক্তিগুলো নানাভাবে গণ্ডগোল লাগিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তারা একত্র হয়ে নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা করছে। এ সুযোগ যদি আমরা কাজে না লাগাতে পারি, তা হবে দেশের জন্য এক বিশাল ক্ষতি।”

এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরেই জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই সনদ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের অবস্থান হলো, সনদ প্রকাশ ও সংস্কার বাস্তবায়নের পরই নির্বাচন ঘোষণা করা উচিত। অন্যদিকে, বিএনপি জুলাই সনদের বিষয়ে একমত থাকলেও তারা এ সনদ ও সংস্কারের সময়সীমা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। দলটির মূল দাবি, নির্বাচন যেন দ্রুত হয় এবং অন্তর্বর্তী সরকার যেন নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করে ভোট আয়োজন করে।

বিএনপির মতে, লন্ডন বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের কথা বললেও কোনো সময়সূচি বা রোডম্যাপ তখন ঘোষণা করেননি। তাই তারা এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণার জন্য চাপ দিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—জুলাই সনদ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে? বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, “আমরা ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত জুলাই সনদ প্রকাশ করতে চাই। ইতোমধ্যেই সনদের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সোমবারের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তা পাঠানো হবে।”

তিনি জানান, দলগুলোর মতামত গ্রহণের পর বড় কোনো মৌলিক আপত্তি না থাকলে আর আলোচনা প্রয়োজন হবে না। চূড়ান্ত সনদে থাকবে—সনদের পটভূমি, প্রাথমিক বক্তব্য, অঙ্গীকার, ও প্রক্রিয়াগত বিষয়সমূহ।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ১০টি বিষয়ে ঐকমত্য হলেও কয়েকটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। সাতটি বিষয়ে আলোচনা অসমাপ্ত এবং তিনটি বিষয়ে এখনো আলোচনা শুরুই হয়নি।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন সামনে রেখে জুলাই সনদ ও ভোটের তারিখ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান গতি-প্রকৃতি, মতানৈক্য ও প্রত্যাশা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। জুলাই সনদের পরই কি ভোটের দিন ঘোষণা হবে, নাকি আগেই—তা জানতে অপেক্ষায় রয়েছে পুরো দেশ।