জাতীয়

পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২১ পিএম

পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক এবং গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, অতীত ইতিহাসের গুরুত্ব অস্বীকার না করেই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের প্রচেষ্টা থাকা উচিত।

সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে "জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস" উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা জানান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আগামী ২৩ আগস্ট ঢাকায় দুই দিনের সফরে আসছেন। সফরকালে ২৪ আগস্ট দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনায় একাত্তরের ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া এবং বাংলাদেশের পাওনা আদায়ের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উত্থাপন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, এর আগে গত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের কথা থাকলেও, সেই সময় ভারতের কাশ্মীরের পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার কারণে সফরটি স্থগিত করা হয়। সেই সফরে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও ছিল।

আলোচনায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও কথা বলেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ভারত থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। ‘প্রয়োজনে তাকে ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়া হতে পারে’ বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশি পাসপোর্টের বৈশ্বিক মান সম্পর্কে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরাই নিজেরাই আমাদের পাসপোর্টের মান কমিয়ে দিচ্ছি। এমন নিখুঁত জালিয়াতি বিশ্বের অন্য কোথাও হয় না।’

জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমন নিয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমেরিকার উদ্বেগ থাকলেও বাংলাদেশ তার অবস্থান থেকে এক চুলও সরে যাবে না।

পররাষ্ট্র নীতিতে বাস্তববাদী ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, "আমরা অতীত ভুলে যাচ্ছি না, তবে ভবিষ্যতের স্বার্থে দায়িত্বশীল ও পরিণত রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অগ্রসর হতে হবে।"

এই সফর ও সম্ভাব্য বৈঠক বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।