জাতীয়
রেলে ৩৫৮ কোটি টাকার ক্ষতি: সাবেক ডিজিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘রোলিং স্টক অপারেশন্স ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’–এর আওতায় ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কেনায় অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে রেলের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) শামসুজ্জামানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্প অনুমোদন থেকে শুরু করে বাজার যাচাই, ফিজিবিলিটি স্টাডি ও প্রকৃত প্রয়োজন নির্ধারণ- সব ক্ষেত্রেই গুরুতর অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ৩৫৮ কোটি টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ নভেম্বর) দুদকের মহাপরিচালক আকতার হোসেন সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমান; তিনি ঢাকা–১ জেলা কার্যালয়ে এজাহার দাখিল করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- রেলের সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক হারুন–অর–রশীদ ও মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ মাহবুব চৌধুরী, পরিচালক মৃণাল কান্তি বণিক এবং প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন চৌধুরী। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৭৭ক/১০৯ ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
দুদকের মহাপরিচালক জানান, আসামিরা পরস্পর সহযোগিতায় প্রতারণা, তথ্য বিকৃতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপ্রয়োজনীয় লাগেজ ভ্যান কেনার প্রস্তাব তৈরি ও অনুমোদন নেন। কারিগরি প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও ভ্যান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। বাজার সমীক্ষা, পণ্য পরিবহনের বাস্তব চাহিদা, কৃষক–ব্যবসায়ীর প্রয়োজন কিংবা লজিস্টিক সক্ষমতা- কোনো কিছুই যাচাই করা হয়নি।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে ৫০টি ব্রডগেজ ও ৭৫টি মিটারগেজ লাগেজ ভ্যান কেনার জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে রেলওয়ে। প্রকল্পের ডিপিপিতে ভ্যানগুলো দিয়ে কৃষিপণ্য, ফল, মাংস ও দুধসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের কথা উল্লেখ করে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২৮ কোটি ৬ লাখ টাকা।
দুদক বলছে, প্রকল্পটি আর্থিকভাবে লাভজনক প্রমাণ করতে যে হিসাব দেখানো হয়েছিল তা ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ২০২৩–২৪ অর্থবছরের জন্য ৩২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার মুনাফার হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে ২০২৪ সালের প্রথম আট মাসে আয় হয়েছে মাত্র ৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৯ কোটি টাকা- যা পূর্বঘোষিত মুনাফার তুলনায় অনেক কম।
দুদকের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হিসাব গোপন, তথ্য বিকৃতি ও অদক্ষ প্রকল্প ব্যবস্থাপনার কারণে ১২৫টি লাগেজ ভ্যান আজ প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে। এতে রাষ্ট্রীয় তহবিলে ৩৫৮ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়া ছাড়াও প্রত্যাশিত আয়ও অর্জিত হয়নি।