জাতীয়

ভারতীয় সীমান্তে পচছে ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ, ২ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য ব্যবসায়ীরা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৫১ এএম

ভারতীয় সীমান্তে পচছে ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ, ২ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্তে চরম সংকটে পড়েছেন ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা। দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অন্তত ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুদ থাকায় সেগুলো এখন দ্রুত পচে যাচ্ছে। ক্ষতি কমাতে বাধ্য হয়ে মাত্র ২ রুপি কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন তারা-যেখানে ওই পেঁয়াজ সীমান্তে পৌঁছাতে খরচ হয়েছিল কমপক্ষে ২২ রুপি।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্তে দেখা যায়, ৫০ কেজির একটি বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ রুপিতে। অথচ নাসিক থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা হয়েছিল ১৬ রুপিতে, এবং পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে খরচ দাঁড়িয়েছে ২২ রুপি। ফলে এখনকার দাম প্রায় বিনামূল্যে বিক্রির সামিল।

স্থানীয় খুচরা বাজারে যেখানে পেঁয়াজের দাম ২০-২২ রুপি, সেখানে মাত্র সাত কিলোমিটার দূরের মাহাদিপুর সীমান্তে ক্রেতারা পাচ্ছেন ২ রুপিতে কেজি। রপ্তানিকারকদের দাবি, বাংলাদেশ হঠাৎ আমদানি বন্ধ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রপ্তানিকারকরা জানান, বাংলাদেশি আমদানিকারকদের মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে ঘোজাডাঙ্গা, পেট্রাপোল, মাহাদিপুর ও হিলি সীমান্তে প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুদ করা হয়েছিল। বাংলাদেশে রপ্তানি করতে পারলে তারা কেজিপ্রতি ৩০–৩২ রুপি পেতেন, যেখানে তাদের লাভ থাকত ৮–১০ রুপি। এখন সেগুলো দ্রুত নষ্ট হওয়ায় শতাধিক শ্রমিক দিয়ে প্রতিদিন ভালো ও পচা পেঁয়াজ আলাদা করা হচ্ছে।

মাহাদিপুর সীমান্ত দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৩০–৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই ধারাবাহিকতার ওপর নির্ভর করেই ভারতীয় ব্যবসায়ীরা শুধু এই সীমান্তে প্রায় ২০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুদ করেছিলেন। কিন্তু গত ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশি আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের এক নোটিশে জানানো হয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভারতীয় পেঁয়াজের ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) সীমিত করেছে। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সাজিরুল শেখ বলেন, “কেউ ৫০ ট্রাক, কেউ ৭০ ট্রাক পেঁয়াজ কিনে এনেছিলাম। ২২ রুপিতে কেনা সেই পেঁয়াজ এখন পচতে শুরু করেছে। তাই বাধ্য হয়ে ২–১০ রুপি কেজিতে বিক্রি করছি।”

আরেক ব্যবসায়ী জাকিরুল ইসলাম বলেন, “আমদানি বন্ধের পর স্টক পচতে শুরু করে। তাই শতাধিক শ্রমিক লাগিয়ে পেঁয়াজ বাছাই করে লোকাল মার্কেটে দিচ্ছি। বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে-তারা এখন পেঁয়াজ নেবে না। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”

এদিকে পানির দরে পেঁয়াজ কিনতে পারলেও এতে খুশি নন ভারতীয় ভোক্তারাও। স্থানীয় ক্রেতা খাইরুল হক বলেন, “সরকারের অবহেলায় পেঁয়াজ বাজারের এই করুণ দশা। ব্যবসায়ীদের বিপুল ক্ষতির মধ্যে আমাদের কম দামে পেঁয়াজ কেনায় কোনো আনন্দ নেই।”