জাতীয়
বেনাপোল বন্দর দিয়ে ১২০ টন পেঁয়াজ আমদানি
দীর্ঘ প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আমদানি হওয়া পেঁয়াজের প্রতি কেজির আমদানি মূল্য পড়েছে বাংলাদেশি টাকায় ৪২ থেকে ৪৩ টাকা।
বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোম ও বুধবার—এই দুই দিনে মোট ১২০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে। ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে চারটি ট্রাকে এসব পেঁয়াজ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এর মধ্যে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি ট্রাকে ৩০ মেট্রিক টন এবং গত সোমবার বিকেলে তিনটি ট্রাকে ৯০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে আসে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভারতীয় বন্দর পেট্রাপোলে আরও কয়েকটি পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলোও বন্দরে ঢুকবে। পেঁয়াজের চালান দ্রুত খালাসের জন্য বন্দরে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
আমদানি করা পেঁয়াজের ছাড়করণ প্রতিষ্ঠান রয়েল এন্টারপ্রাইজের মালিক রফিকুল ইসলাম রয়েল বলেন, মেসার্স এইচ কে এ এন্টারপ্রাইজ (সাতক্ষীরা) এবং মেসার্স সাবাহ এন্টারপ্রাইজ (যশোর) এসব পেঁয়াজ আমদানি করেছে। প্রথম চালানে তিনটি ট্রাকে ৯০ মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয় চালানে বুধবার সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ৩০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসেছে। এর আগে সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে এই বন্দর দিয়ে ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স কপোতাক্ষ সিএন্ডএফ এজেন্টের মালিক আবু নিদাল ফয়সল জানান, ভারত থেকে প্রতি টন পেঁয়াজ ৩০৫ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হচ্ছে। বন্দর শুল্ক ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত করে প্রতিকেজি পেঁয়াজের আমদানি মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৪২ থেকে ৪৩ টাকা। পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় যোগ হলে বাজারজাত পর্যায়ে প্রতি কেজির খরচ ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা হওয়ার কথা। অথচ বাজারে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে, যা অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় বেনাপোল ও আশপাশের কিছু বাজারে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম কমলেও বেনাপোলের প্রধান কাঁচাবাজারে তেমন কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। সেখানে বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে প্রশাসনের কার্যকর মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে রাখছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার না করা হলে আমদানির সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না।