জাতীয়
কিশোররা রাতে অযাচিতভাবে রাস্তায় ঘুরাঘুরি করলে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ: শিক্ষামন্ত্রী
রাতে কিশোরদের অযাচিতভাবে রাস্তায় ঘোরাঘুরি বন্ধ করতে হবে-এমন নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখন থেকে রাতের বেলা রাস্তায় ঘোরাফেরা করলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের নির্বাচনি এলাকা কচুয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমার মেয়েরা, আপনার বোনেরা, আপনার মায়েরা-সবাই যেন নিরাপদ থাকে। কোনো অবস্থাতেই ইভটিজিংয়ের বিন্দুমাত্র ঘটনাও সহ্য করা হবে না। কিশোরদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে থাকবে জিরো টলারেন্স নীতি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব।
রাতে কিশোরদের অযথা ঘোরাফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দেখেছি নির্বাচনের সময় সারা রাত কিশোররা রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। কেন তারা ঘোরে-এ প্রশ্ন তুললেই উল্টো মব আক্রমণের মতো ঘটনা ঘটে। এখন থেকে রাতে রাস্তায় ঘোরাফেরা করলে পুলিশ জিজ্ঞেস করবে-কেন ঘুরছে, কোথায় গিয়েছিল, কী প্রয়োজনে বের হয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে সম্ভাব্য আপত্তির কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এতে কেউ যদি সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের কথা বলেন, সেটা পরে দেখা যাবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই-কচুয়াকে একটি নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা। এটি নিশ্চিত করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।”
সভায় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর বার্তা দেন। এহছানুল হক মিলন বলেন, “আমি জীবনে দুর্নীতি করবো না, কাউকে দুর্নীতি করতে দেবো না-এটাই আমার প্রতিজ্ঞা। যারা এই প্রতিজ্ঞার সঙ্গে থাকতে পারবেন না, তারা অনুগ্রহ করে এখান থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। প্রয়োজনে আমাকে বলবেন, আমি ভালো জায়গা দেখে বদলির ব্যবস্থা করে দেবো। কিন্তু কচুয়াকে আমি পবিত্র রাখবো।”
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মো. নাজমুল ইসলাম সরকার, রবিউল হাসান, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিনসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।