জাতীয়

দেশে ফেরানো ঠেকাতে দুবাইয়ে নিজের নামে মামলা করালেন বেনজীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২৬ পিএম

দেশে ফেরানো ঠেকাতে দুবাইয়ে নিজের নামে মামলা করালেন বেনজীর
ছবি: সংগৃহীত

দেশে প্রত্যর্পণ এড়াতে নতুন আইনি কৌশল নিয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ এমন তথ্য সামনে এসেছে। দুবাইয়ে নিজের নামেই একটি মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি আর্থিক সংক্রান্ত অভিযোগে মামলার বাদী হয়েছেন। উদ্দেশ্য একটাই যেন তাকে সহজে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো না যায়।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেনজীর আহমেদের আইনি বিষয় দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এমন দাবি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জামিন প্রক্রিয়া নিয়েই তারা ব্যস্ত রয়েছেন।

সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

দুবাইভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ ঘিরে আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইতোমধ্যে তার পক্ষ থেকে একটি দেওয়ানি ও ব্যক্তিগত আর্থিক সংক্রান্ত মামলা করা হয়েছে, যা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দুবাইয়ের আইনে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর্থিক বা সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে অন্য দেশে হস্তান্তর করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রত্যর্পণ ঠেকাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই স্থানীয় আদালতে বিভিন্ন আবেদন বা মামলা করেন। এর মাধ্যমে তারা বিচারিক সুরক্ষা চান বা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করেন, যা আন্তর্জাতিক আইনে অস্বাভাবিক নয়।

তবে বেনজীর আহমেদ নিজেই লোক দিয়ে মামলা করিয়েছেন এমন দাবির পক্ষে এখনো কোনো প্রকাশ্য নথি বা সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্রও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আইনজীবীরা বলছেন, যাচাইবিহীন কোনো অভিযোগকে আদালতের নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। তাই পুরো বিষয়টি এখন নির্ভর করছে দুবাই আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।