জাতীয়

ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো: প্রধানমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো, যার ফলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের নানা সমস্যা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা হচ্ছে যেখানে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। সবার অংশগ্রহণে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ভূমি মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসীদের জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, উচ্ছেদ বন্ধ এবং ঋণ সুবিধা প্রদানের দাবি জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগের সরকার ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। যদি প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার না হতো, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান আগেই সম্ভব হতো।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে দেশে নানা সমস্যা এখনো বিদ্যমান। আগের সময়ে এসব সমস্যা সমাধান করা হলে বর্তমান পরিস্থিতি এত জটিল হতো না। এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ধাপে ধাপে উন্নীত করা হচ্ছে। অতীতে ৩১ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের পর পরবর্তীতে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিল, বর্তমানে সরকার ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ও হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের ওপর কর কমানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জিব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।