জাতীয়

এবার মাছেও পাওয়া গেল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে কম কোনটিতে?


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

এবার মাছেও পাওয়া গেল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে কম কোনটিতে?
ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের পর এবার মাছেও মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি। দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক জলাভূমি আড়িয়াল বিলের দেশীয় ছোট মাছের দেহে উদ্বেগজনক মাত্রায় প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। শুধু মাছের অন্ত্র বা ফুলকায় নয়, মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত মাংসপেশিতেও এই কণা পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচ প্রজাতির মাছের মধ্যে সবচেয়ে কম মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে পুঁটি মাছে। বিপরীতে সবচেয়ে বেশি কণা শনাক্ত হয়েছে কই মাছে। কইয়ের পর বাটা, তারপর মেনি (ভেদা/নানদিনা) ও গুলশা টেংরা মাছে তুলনামূলক বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

গবেষণাটি আড়িয়াল বিলের গাদীঘাট, বসুরোলা ডেঙ্গা, সাগর ডেঙ্গা, বড়াইখালী ও আলমপুর এলাকা থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ওপর পরিচালিত হয়। ২০২৪ সালের বর্ষা, ২০২৪-২৫ সালের শীত এবং ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে পানি, পলিমাটি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মোট ১৫০টি মাছের অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসপেশি আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ফলাফলে দেখা যায়, পুঁটি মাছের মাংসপেশিতে সবচেয়ে কম- শূন্য দশমিক ৫০ থেকে শূন্য দশমিক ৫১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে কই মাছের মাংসপেশিতে গড়ে প্রায় একটি কণা পাওয়া যায়, আর অন্ত্রে ও ফুলকায় এর পরিমাণ আরও বেশি।

গবেষকদের মতে, কই মাছ সর্বভুক হওয়ায় তলদেশের পলি ও অন্যান্য খাদ্যের সঙ্গে থাকা প্লাস্টিক কণাও সহজে গ্রহণ করে। এছাড়া খুব ছোট আকারের কণাগুলো মাছের পরিপাকতন্ত্র অতিক্রম করে মাংসপেশিতে পৌঁছাতে পারে।

তৃণভোজী বাটা মাছের অন্ত্রে বর্ষা মৌসুমে গড়ে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫০টি কণা পাওয়া গেছে। মেনি ও গুলশা টেংরা মাছেও মাঝারি মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, বিশেষ করে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে এর উপস্থিতি বেশি ছিল।

গবেষকদের মতে, বর্তমানে এসব মাছ খেয়ে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্য, জলজ পরিবেশ ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তারা মনে করছেন, আতঙ্ক নয়- বরং উৎস থেকেই প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। এজন্য নদী ও খালে বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা জোরদার, নিষিদ্ধ প্লাস্টিক জাল ব্যবহার বন্ধ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানোর সুপারিশ করেছেন তারা।

গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন পরিবেশের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। আড়িয়াল বিলের মাছের মাংসপেশিতেও এর উপস্থিতি পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদিও তাৎক্ষণিক ক্ষতির প্রমাণ নেই, তবে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ভবিষ্যতে প্রকাশ পেতে পারে।