রাজনীতি

জামায়াত নেতার সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালকের কথোপকথনের অডিও ফাঁস! (ভিডিও)


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:১১ পিএম

জামায়াত নেতার সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালকের কথোপকথনের অডিও ফাঁস! (ভিডিও)
জুম মিটিংয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক আব্দুল জলিল ও অন্যান্য কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর মো. আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত কথোপকথনের কিছু অংশ ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ফাঁস হওয়া অডিওতে নির্বাচনী কেন্দ্রে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য দায়িত্ব, কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ডিউটি পরিকল্পনা নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে।

অডিও ফাঁসের পর ইসলামী ব্যাংক ও জামায়াতের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আবারও নতুন করে সামনে এসেছে। যদিও ২৮ অক্টোবর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন “ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামের কোনো সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক সম্পর্ক নেই।”

নতুন এই অভিযোগ জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে যে, ব্যাংক ও রাজনৈতিক দল কোনওভাবে নির্বাচনে যুক্ত হয়েছে কি না। এর আগে ২৬ অক্টোবর জামায়াত একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের কর্মকর্তাদের জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানানোর পর জামায়াত এ প্রতিক্রিয়া জানায়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “বিএনপির দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য। এসব প্রতিষ্ঠান বহু বছর ধরে অরাজনৈতিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, তাই তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ নির্বাচনের আগে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।”

২৩ অক্টোবর বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে অভিযোগ তোলে, “ব্যাংকগুলোর কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর রাজনৈতিক পক্ষপাত থাকতে পারে, তাই তাদের ভোটের কাজে যুক্ত করা উচিত নয়।” বৈঠক শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, “নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।”

কে এই মো. আব্দুল জলিল?

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে নাম জড়ানো মো. আব্দুল জলিল ইসলামী ব্যাংকের ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর এবং দেশের অভিজ্ঞ ও খ্যাতিমান ইসলামী ব্যাংকারদের একজন। তিনি ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ডিএমডি হিসেবে ২০১৭ সালে অবসর নেন।

ইসলামী ব্যাংকের অফিসিয়াল প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ব্যাংকিং, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অফশোর ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ।

অডিও ফাঁসের দাবির পরও ইসলামী ব্যাংক, জামায়াতের সংশ্লিষ্ট নেতারা বা নির্বাচন কমিশন এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি। বিষয়টি যাচাই বা তদন্ত করা হবে কি না, তাও অজানা। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এমন তথ্য প্রকাশ নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।