রাজনীতি
‘যৌনকর্মী’ মন্তব্যের জেরে রাবি ছাত্রদল নেতাকে আজীবন বহিষ্কার ও মামলা দায়ের
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান মিলন খানকে ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে থানায় মামলাও দায়ের করেছেন রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি।
আনিসুর রহমান মিলন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হল শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের দফতর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবন জানান, ‘বিজয়-৩৬’ হল প্রভোস্টের নোটিশকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সময় মিলন অশ্লীল মন্তব্য করেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এ ঘটনায় রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বাদী হয়ে মতিহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতে ‘জুলাই-৩৬’ হলের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁরা ‘ইভটিজারের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘নারীদের বুলিং করে, প্রশাসন কী করে?’ এবং ‘ইভটিজারের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’—এমন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীরা তিন দফা দাবি জানান—
১. আনিসুর রহমান মিলনের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা
২. ক্যাম্পাসে সাইবার বুলিং প্রতিরোধ সেল গঠন
৩. নারীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্যকারীদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাত্রী বলেন, “২০২৫ সালেও নারীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। ভয়ের কারণে অনেকে নির্বাচনে অংশ নিতে দ্বিধায় ভোগেন। কিছুদিন আগে রহমাতুন্নেছা হলের ছাত্রীদের অপমান করা হয়েছিল, এবার জুলাই-৩৬ হলের ৯১ জন ছাত্রীকে হেয় করা হলো। আমরা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি—এমন মন্তব্যকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল প্রথমে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মিলনের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানান, “ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ছাত্রদল নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।”
‘জুলাই-৩৬’ হলে নির্ধারিত সময়ের পরে প্রবেশ করায় সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) ৯১ জন ছাত্রীকে প্রকাশ্যে নোটিশ দিয়ে তলব করেছিলেন হল প্রাধ্যক্ষ। নোটিশকে ঘিরে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এ বিষয়টি নিয়ে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামে ফেসবুক গ্রুপে আলোচনার সময় ওই ৯১ জন ছাত্রীকে বিনা পারিশ্রমিক “যৌনকর্মী” বলে মন্তব্য করেন আনিসুর রহমান মিলন।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মন্তব্যটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ।