রাজনীতি
অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে মুছাব্বির হত্যা: মির্জা ফখরুল
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে দুষ্কৃতকারীদের অমানবিক ও নৃশংস কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
শোকবার্তায় মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর একটি চক্র দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। নৈরাজ্য সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে তারা সহিংসতায় জড়াচ্ছে। মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড সেই অপচেষ্টারই নির্মম উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বিব্রত করতেই এ ধরনের লোমহর্ষক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে। এ অবস্থায় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার এবং জানমাল রক্ষার স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তা না হলে ওত পেতে থাকা ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে এবং দেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
শোকবার্তায় তিনি মুছাব্বির হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার কিছু পর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ে হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মুছাব্বির নিহত হন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদও আহত হন। পরে মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।