রাজনীতি

জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারীরা জনগণ ও গণঅভ্যুত্থান থেকে ছিটকে গেছে: নাহিদ ইসলাম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:৫৯ পিএম

জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারীরা জনগণ ও গণঅভ্যুত্থান থেকে ছিটকে গেছে: নাহিদ ইসলাম
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

‘জুলাই সনদে যারা স্বাক্ষর করেছেন, তারা জনগণ ও গণঅভ্যুত্থান থেকে ছিটকে পড়েছেন’—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এনসিপির অনুপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এ বক্তব্য দেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “গতকালের সংঘর্ষে আহত যোদ্ধাদের ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনুসারী’ বলায় আমরা বিস্মিত ও মর্মাহত। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্ভবত ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এমন মন্তব্য করেছেন, কারণ তিনি দেশে ছিলেন না, রাজপথে ছিলেন না, আন্দোলনের বাস্তবতা থেকে দূরে ছিলেন।”

তিনি বলেন, যারা রাজপথে থেকে জীবন দিয়েছেন বা দেহের অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের এভাবে গালি দেওয়া ‘লজ্জাজনক ও অমানবিক’। যে আতিকুল গাজীর হাত নেই, তাকে ফ্যাসিস্ট দোসর বলা হলে তা শুধু আহত যোদ্ধাদের জন্যই নয়, গোটা আন্দোলনের জন্য অপমানজনক।

বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমেদের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, “আপনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গল্প শুনুন, বুঝুন কারা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছিল। শহীদদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চান।”

সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর করেন দেশের ২৪টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। এই সনদে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সনদ স্বাক্ষরের পর ইউনূস বলেন, “আজকের দিনটি বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। এই ঐক্যের ইতিহাস সবাই মনে রাখবে।”

তবে এনসিপিসহ কয়েকটি বামপন্থি দল- যেমন সিপিবি, বাসদ, জাসদ ও বাসদ (মার্ক্সবাদী) এই সনদে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত ছিল। এনসিপি জানিয়েছে, সনদের আইনি কাঠামো ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিষ্কার না থাকায় তারা এতে স্বাক্ষর করেনি।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘জুলাই যোদ্ধা’রা সংসদ ভবনের অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে প্রতিবাদ জানান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ আন্দোলনকারীদের অনেকে আহত হন।