রাজনীতি
পরবর্তী টার্গেট হাসনাত আব্দুল্লাহ, ভারতীয় সাবেক কর্ণেলের হুমকি
হাদির ওপর হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার টার্গেট করা হয়েছে হাসনাত আব্দুল্লাহকে। ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল অজয় রায়না তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে হাসনাতের ছবি শেয়ার করে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, হাদির পর পরবর্তী লক্ষ্য জুলাই যোদ্ধা, দেশপ্রেমিক ও ভারতবিরোধী এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। এটি একটি সার্বভৌম দেশের রাজনৈতিক নেতার ওপর বিদেশি হস্তক্ষেপ ও প্রকাশ্য হত্যার হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, ওসমান হাদি-সহ মোট ৭০ জনের একটি তালিকা করেছে সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ, জুলাই যোদ্ধা ও সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টরা। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জুলাই যোদ্ধা, দেশপ্রেমিক ও ভারতবিরোধী এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
হাসনাতের ছবি সম্বলিত ‘ব্যাটালিয়ান সেভেন্টি ওয়ান’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের পোস্ট শেয়ার করে অজয় লিখেছেন, হাদির পর পরবর্তী টার্গেট হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার দেওয়া ওই পোস্টটি শেয়ার করে রওশন হক নামের এক বাংলাদেশি জবাব দিয়ে লিখেছেন, যিনি পোস্ট করেছেন তিনি একজন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য, ২৯টি বইয়ের লেখক এবং একজন চলচ্চিত্র পরামর্শক।
গত সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাসনাত আব্দুল্লাহ ভারতের আধিপত্যবাদী নীতির কড়া সমালোচনা করে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে আশ্রয় দেয়, তবে বাংলাদেশও ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহযোগিতা করতে পারে।
এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মঙ্গলবার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেছেন। তিনি ভারতকে একটি "পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র" উল্লেখ করে বাংলাদেশকে "শিক্ষা দেওয়ার" হুমকি দিয়েছেন। তার এই বক্তব্যকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং উসকানিমূলক বলে মনে করছে সচেতন মহল।
‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে একীভূত করা বা আলাদা করার ধারণা সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক। গত এক বছরে বারবার এমন বক্তব্য আসছে যে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে বাংলাদেশে যুক্ত করা উচিত। ভারত একটি বড় দেশ, একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। বাংলাদেশ কীভাবে এমন কথা ভাবতে পারে? এ ধরনের শত্রুতামূলক আচরণ চলতে থাকলে ভারত চুপ থাকবে না। প্রয়োজনে শিক্ষা দিতে হতে পারে।’
এদিকে হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার পর ফাঁস হওয়া একটি অডিওতে হাসিনাকে বলতে শোনা গেছে, নিজেরাই নিজেদের গুলি করছে। তাদের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে, ঘরবাড়ি ছাড়া করা হচ্ছে। তিনি ওই অডিওতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের উসকানি দিয়ে এবং জুলাই যোদ্ধাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে আরও বলেন, যতজনের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তারা সবাই রাস্তায় নামলে ওরা যাবে কোথায়। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলতে শোনা যায়, হাসিনার কিলিং মিশন বাস্তবায়নে ঢাকায় প্রবেশ করবে একদল দক্ষ ঘাতক।
হাসিনার কিলিং মিশনের আরও একটি অডিও ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, মাঠে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেই। যা করার তাদেরই করতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ধরে ধরে হত্যার কথাও বলেন তিনি।
এর আগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শীর্ষ নেতাদের ওপর দফায় দফায় হামলা হয়েছে। দলটির ‘১৬ জুলাই: মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি পণ্ড করতে বিভিন্ন স্থান থেকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী দুই দিন আগে আশপাশের এলাকা থেকে গোপালগঞ্জ শহরে হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো করে আওয়ামী লীগ। টার্গেট ছিল—এনসিপিকে ঢুকতে দেওয়া হলেও তাদের জীবিত বের হতে দেওয়া হবে না; বিশেষ করে শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা।
অভিযোগ রয়েছে, তাদের হত্যা করতে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিল খুনি হাসিনা। দেশের একটি পত্রিকায় বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা নিষিদ্ধ ঘোষিত গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন।
‘ওরা নাকি গোপালগঞ্জে যাচ্ছে। টুঙ্গিপাড়ায় আমার বাবার কবর ভেঙে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ৩২ নম্বরের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এবার টুঙ্গিপাড়ায় হামলা চালাবে। তোমরা বসে আছ কেন? যে যেভাবে পার প্রতিহত কর। গোপালগঞ্জে কোনোভাবেই যাতে ওরা ঢুকতে না পারে। কোনো ধরনের কর্মসূচি যাতে করতে না পারে। মনে রাখবা, গোপালগঞ্জের মাটি থেকে ওদের কেউ যাতে অক্ষত অবস্থায় ফিরে যেতে না পারে।’
হাদিকে হত্যাচেষ্টার পর হামলাকারীরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আবার এ ঘটনার পর হাসিনার ফোনকল ফাঁস, ভারতের সেনা কর্মকর্তার সরাসরি হাসনাতকে লক্ষ্য করে পোস্ট এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রীর পারমাণবিক হামলার হুমকি নতুন করে দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।