রাজনীতি

সাবেক আইজিপি মামুনের আইনজীবী শিশির মনির, দাবি তারেকের


নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:২৭ পিএম

সাবেক আইজিপি মামুনের আইনজীবী শিশির মনির, দাবি তারেকের
শিশির মনির (বামে) এবং তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন-এর পক্ষে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শিশির মনির- এমনই দাবি করেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে তারেক বলেন, “আইজিপি মামুন এখন রাজসাক্ষী দিচ্ছেন। আপনারা কি জানেন তার আইনজীবী কে? তিনি আর কেউ নন শিশির মনির। শিশির মনির ও তার ‘ল ল্যাব’ টিম তাকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে।”

তারেকের দাবি, সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায় চাপাতে এবং আইজিপি মামুনকে বাঁচাতে তাকে রাজসাক্ষী বানানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এক নম্বর কিংবা দুই নম্বর আসামিকে কি করে রাজসাক্ষী বানানো হয়? গুলি চালানোর নির্দেশ যিনি দিয়েছেন বলে বলা হচ্ছে, তার সাক্ষ্য দিয়ে কি অপরাধ প্রমাণ হবে? শেখ হাসিনাকে দোষী করলেই কি তাকে ফিরিয়ে আনা যাবে?”

শিশির মনিরের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তারেক বলেন, “আপনার কত টাকা দরকার ভাই? কেন এমন কাজ করছেন? নৈতিকতা বলে কিছু নেই?”

তিনি আরও বলেন, বড় বড় রাজনৈতিক নেতা ও আইনজ্ঞদের কাছে গিয়েছেন তিনি, কিন্তু সবাই বলেছেন, “আইনজীবী হিসেবে সাপোর্ট দেওয়া যেতেই পারে।” কিন্তু তারেকের মতে, “আইনি সহায়তা দেওয়া এক বিষয়, আর নৈতিকভাবে এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে সহায়তা দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বলেছেন, জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে আমাদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা সংঘটনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য। এ ঘটনায় আমি নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করছি। আমি রাজসাক্ষী হয়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার বিস্তারিত আদালতে তুলে ধরতে চাই। রহস্য উন্মোচনে আদালতকে সহায়তা করতে চাই।

সেদিন দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দায় স্বীকার করে এমন বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় ট্রাইব্যুনাল তার রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ৩১তম মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।