প্রবাস
কানাডার এমপি হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক ডলি বেগম কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়ী হন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল উপনির্বাচনে তার এই জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি অফ কানাডা সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-এর নেতৃত্বাধীন দলটি এর ফলে সরকার পরিচালনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।
এই উপনির্বাচনগুলো অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি-রোসডেল, স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট এবং কুইবেকের তেরেবোন আসনে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগে লিবারেলদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে মাত্র একটি আসনের প্রয়োজন ছিল, যা ডলি বেগমের জয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়। বর্তমানে পার্লামেন্টে দলটির আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪-এ।
ফেডারেল রাজনীতিতে প্রবেশের আগে ডলি বেগম অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে তিনবার নির্বাচিত হন। তিনি নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি-র প্রার্থী হিসেবে ২০১৮, ২০২২ এবং সর্বশেষ নির্বাচনে জয়লাভ করেন। কানাডার তিন স্তরের কোনো আইনসভায় তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ছিলেন।
চলতি বছরের শুরুতে সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ার-এর পদত্যাগের পর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি শূন্য হলে লিবারেল পার্টি থেকে মনোনয়ন পান ডলি বেগম। পরে উপনির্বাচনে জয় পেয়ে তিনি ফেডারেল রাজনীতিতে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন।
নিজের প্রতিক্রিয়ায় ডলি বেগম বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করাই তার অগ্রাধিকার। তিনি প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে কাজ করে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ কানাডা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা ডলি বেগম ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে কানাডায় পাড়ি জমান। পরবর্তীতে তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উন্নয়ন প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।