প্রবাস

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য আগস্টেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’ 


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য আগস্টেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’ 
ছবিঃ সংগৃহীত

বিদেশগামী ও বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রবাসী কার্ড’ আগামী আগস্ট মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ডেবিট কার্ড আকারে এটি বিতরণ করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে মোট ২ লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল লক্ষ্য হলো বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা গড়ে তোলা। একই সঙ্গে ব্যাংকিং, সরকারি ও কল্যাণমূলক সেবা সহজ করা এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের আরও উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

কী হবে প্রবাসী কার্ড?

প্রবাসী কার্ড হবে একটি স্মার্ট ডিজিটাল পরিচয়পত্র, যা পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক ও সরকারি সেবা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হবে। কার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা যাবে। এছাড়া একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এর ডিজিটাল সংস্করণও ব্যবহার করা যাবে, ফলে সবসময় প্লাস্টিক কার্ড বহনের প্রয়োজন হবে না।

যেসব সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা

ডুয়েল কারেন্সি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং:

কার্ডটিতে আধুনিক পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত থাকবে। ফলে প্রবাসীরা অবস্থানরত দেশের মুদ্রা এবং বাংলাদেশি টাকায় লেনদেন ও কেনাকাটা করতে পারবেন। বিদেশে বসেই দেশের পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অনলাইনে কেনাকাটাও করা যাবে।

এয়ারপোর্ট ও ভ্রমণ সুবিধা:

কার্ডধারীরা বিমানবন্দরে বিশেষ প্রটোকল সেবা, এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিভিন্ন ছাড় পাবেন।

আবাসন সুবিধা:

সরকারের পরিকল্পিত ‘প্রবাসী সিটি’ প্রকল্পে প্লট বা আবাসন কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।

বীমা ও সামাজিক সুরক্ষা:

বিএমইটির বীমা সুবিধা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বৈধ পথে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর সরকারি প্রণোদনার সুবিধাও বহাল থাকবে।

কারা আগে পাবেন?

প্রথম ধাপে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-তে নিবন্ধিত প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করার পর তারা সহজেই কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।

যাদের ইতোমধ্যে বিএমইটি কার্ড রয়েছে, তাদের নতুন করে নিবন্ধন ফি নাও দিতে হতে পারে। তবে নতুন আবেদনকারীদের নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হতে পারে।

কীভাবে বিতরণ করা হবে?

আগস্টে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমে প্রবাসীদের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

এছাড়া বিদেশে শিক্ষার্থী, নির্ভরশীল বা অন্য ভিসায় গিয়ে পরে কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন কিন্তু বিএমইটি নিবন্ধন নেই—এমন বাংলাদেশিদেরও ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।