সারাদেশ

বিএনপি নেতা খুন, আধাঘণ্টা পর ছাত্রদল কর্মীর ফেসবুকে ‘আউট’ লেখা পোস্ট


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:১৮ পিএম

বিএনপি নেতা খুন, আধাঘণ্টা পর ছাত্রদল কর্মীর ফেসবুকে ‘আউট’ লেখা পোস্ট
নিহত আবুল কালাম (বামে) এবং ছাত্রদল কর্মী কাউছারের ফেসবুক পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আর এ ঘটনার পরপরই আলোচনায় আসে স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী কাউছার হোসেন। পরিবারের দাবি, এই কাউছারই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। মূলত ঘটনার মাত্র আধাঘণ্টা পরই তার ফেসবুকে প্রকাশিত একটি পোস্ট আরও ক্ষোভ ও সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোস্তফার দোকান এলাকায় আবুল কালামকে হত্যার পর রাত ৯টার দিকে কাউছার তার ফেসবুক আইডি ‘কে এম বাদল’ থেকে একটি ক্রিকেট ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, খেলায় একজন রানআউট হচ্ছেন। পোস্টটির ক্যাপশনে তিনি শুধু একটি শব্দ লেখেন—‘আউট’। নিহতের পরিবার এই পোস্টকে হত্যার ইঙ্গিতবাহী বলে অভিযোগ করছে।

আবুল কালামের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার বলেন, “আমার স্বামী খুন হওয়ার পরই কাউছারের ‘আউট’ লেখা পোস্ট- এটা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। এটি ইচ্ছাকৃত ইঙ্গিত।”

স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছাত্রদল কর্মী কাউছারের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি একটি হত্যা মামলার আসামিও। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিহত কালামের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

laksmipur1_Dhakaprokash.jpg
অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী কাউছার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

অভিযোগ অস্বীকার করে কাউছার মুঠোফোনে বলেন, “ঘটনার সময় আমি লতিফপুর বাজারের মোস্তফার দোকানে ছিলাম। কালাম ভাই বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার সঙ্গেই ঘুরেছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

ফেসবুকে ‘আউট’ লেখার বিষয়ে তিনি বলেন, “বাড়ির সামনে ক্রিকেট খেলেছি, সেই ভিডিও দিয়েছি।”

হত্যার খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি তিন দিনের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, “বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু নৃশংসভাবে খুন- এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

এদিকে রোববার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। কালামের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মো. ফয়েজুল আজীম জানান, প্রাথমিক তদন্তে কাউছারের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলছে। তার ‘আউট’ পোস্ট পুলিশ পর্যালোচনা করছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি চার–পাঁচজন মিলে ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।