সারাদেশ
অপ্রতিম হত্যায় নতুন মোড়, সামনে এলো ৫ হাজার টাকার বিরোধ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইফোনের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা ধার দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তুহিন নামে এক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার মুঠোফোনে আসা কয়েকটি কলের সূত্র ধরে আরও দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তুহিন নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। তদন্তকারীদের কাছে তুহিন দাবি করেন, অন্যদের নাম প্রকাশ না করার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।
পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়ার সময় অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তকারীদের জানা ছিল না। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় তুহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন আসে। ফোনগুলো করছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোর। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এলে তাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। সে সময় ওই কিশোরের পরনে ছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা টি শার্ট।
পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আইফোনের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা ধার দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের তথ্যও পাওয়া গেছে। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মুঠোফোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে ওই কিশোর কাজ করত।
জানা গেছে, অপ্রতিম ওই কিশোরকে ৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। পরে সেই টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ধার করা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে অপ্রতিমের ওপর ওই কিশোরের বিরক্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এমনকি অপ্রতিম না থাকলে ধার করা টাকা ফেরত দিতে হবে না, এমন চিন্তাও তার মধ্যে তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে ৫ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধই অপ্রতিম হত্যার মূল কারণ কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
গত শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে দক্ষিণ সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলটি অপ্রতিমের বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।