সারাদেশ
এক সপ্তাহ পর গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ফেরত দিল বিএসএফ
চুয়াডাঙ্গার সুলতানপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত বাংলাদেশের নাগরিক ইব্রাহিম বাবুর মরদেহ অবশেষে এক সপ্তাহ পর ফেরত দিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আইসিপি সীমান্তে শুন্যরেখায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহতের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
এই সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মাসুদ হায়দার, সরকারি পরিচালক মো. হায়দার আলী, দর্শনা বিওপিতে কর্মরত ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. এনায়েত হোসেন এবং বিজিবির আরও ৯ জন সদস্য।
অন্যদিকে ভারতীয় পক্ষ থেকে ছিল ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শ্রী সুজিত কুমার, হালদারপাড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি তপস্যর কুমার সহ ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
ভারতের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কৃষ্ণগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্রী সৌগত রায় ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও চারজন পুলিশ সদস্য মরদেহ হস্তান্তরের জন্য সীমান্তে নিয়ে আসেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মহিবুল্লাহ মরদেহ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন। এরপর মরদেহ চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার ওসি মো. শহীদ তিতুমীর-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত ইব্রাহিম বাবুর ভগ্নিপতি মো. এনামুল হক মরদেহ শনাক্ত করে বুঝে নেন।
নিহত ইব্রাহিম বাবু (৩২) চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার ঝাঝাডাঙ্গার মাদরাসা পাড়ার বাসিন্দা এবং নুরুল ইসলামের ছেলে। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে বুধবার দুপুরে বাবু ও আরও দুই-তিনজন সীমান্তের পাশে ঘাস কাটতে গিয়ে ভুলবশত ভারতের সীমানায় প্রায় ২০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় হালদারপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
দুইটি গুলির আঘাতে গুরুতর আহত হন বাবু। অন্যরা কোনোমতে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারলেও বাবুকে বিএসএফ সদস্যরা ধরে টেনে হিচড়ে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, সেখানেই বাবুর মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ ভারতের শক্তিনগর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়।
ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই বিএসএফ-এর সাথে যোগাযোগ করা হয়। যদিও বিএসএফ শুরুতে জানায়, তারা কিছু স্বর্ণপাচারকারীর সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটেছে।
তবে বিজিবি কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে নিহত বাবুর মরদেহ ফেরতের জন্য ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠায়। এরপর গত বৃহস্পতিবার সকালে বিএসএফ মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানায়। এবং সবশেষে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
নিহত ইব্রাহিম বাবু ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার তিন বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা জানিয়েছেন, মরদেহ ফেরত পাওয়ার পর রাতেই নিজ গ্রামে তাকে দাফন করা হয়েছে।