সারাদেশ

দুই বছরের কাজ শেষ হয়নি ১৩ বছরেও: দর্শনা কেরুর প্রকল্প তদন্তে সেনাবাহিনী


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:১৯ পিএম

দুই বছরের কাজ শেষ হয়নি ১৩ বছরেও: দর্শনা কেরুর প্রকল্প তদন্তে সেনাবাহিনী
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

দুই বছরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও টানা ১৩ বছরেও শেষ হয়নি দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির আধুনিকায়ন প্রকল্প। ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সর্বশেষ রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৯ সদস্যের একটি দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন দলের নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল নাহিদ আজগার, ব্রিগেডিয়ার সাজ্জাদ হোসেন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলামিন হোসেন।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির আধুনিকায়ন প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১২ সালের ২০ এপ্রিল। এর উদ্দেশ্য ছিল চিনিকলটির আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রসেস লস কমিয়ে আনা। শুরুতে প্রকল্পটি ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় একের পর এক সংশোধনের মাধ্যমে সময় ও ব্যয় বাড়ানো হয়। সাত দফায় মেয়াদ বাড়াতে বাড়াতে সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়া হলেও কাজ শেষ হয়নি। বরং খরচ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকায়। এ পর্যন্ত ৮০ কোটি টাকা খরচ হলেও প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭৮.৩২ শতাংশ।

গত ১৭ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অষ্টমবারের মতো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। একনেক সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চিনি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং স্থানীয় কৃষি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় সব কাজ শেষ হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা আসতে পারেননি। ফলে পূর্ণাঙ্গ প্রোডাকশন ট্রায়াল রান করা সম্ভব হয়নি। এর ফলেই আবারও সময় বৃদ্ধির প্রয়োজন পড়ে।

প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা এবং অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন উঠায় সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ পরিদর্শনে তারা অগ্রগতি ও অব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করেন।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, “প্রকল্পের কাজ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। কাজ বুঝিয়ে দিলে আমরা তা গ্রহণ করব।”

প্রকল্পটি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়, তবে কেরু চিনিকলের উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের আখ বিক্রির সুযোগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চিনি আমদানি নির্ভরতা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত খরচ এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা প্রকল্পটিকে বিতর্কিত করে তুলেছে।