সারাদেশ
মাজারের দিঘিতে কুমিরে টেনে নেয়া সেই ফাতেমার মরদেহ ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলীর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিখোঁজ হওয়া সাত বছর বয়সী শিশু ফাতেমার মরদেহ প্রায় ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটসংলগ্ন পূর্ব পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন মাজারের খাদেমরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারের দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে নামলে হঠাৎ একটি কুমির ফাতেমাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা দ্রুত নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
খবর পেয়ে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতভর অনুসন্ধান চালান। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে মাজারের খাদেমরা দিঘির মহিলা ঘাটের পূর্ব পাশে ফাতেমার মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে ঘাটে নিয়ে আসা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ফাতেমা তার বাকপ্রতিবন্ধী মায়ের সঙ্গে মাজার এলাকায় বসবাস করত। মাত্র এক বছর বয়সে তার মা তাকে নিয়ে সেখানে আশ্রয় নেন। মায়ের মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও বাকপ্রতিবন্ধকতার কারণে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন ফাতেমার মা। মেয়ের ব্যবহৃত ওড়না ও পানির বোতল বুকে জড়িয়ে দীর্ঘ সময় দিঘির ঘাটে নীরবে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাজার কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।