সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্যে ঘুষের টাকা গুণে নিচ্ছেন উজ্জ্বল বড়ুয়া


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৫, ০৪:০২ পিএম

চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্যে ঘুষের টাকা গুণে নিচ্ছেন উজ্জ্বল বড়ুয়া
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ক্যাশিয়ার উজ্জ্বল বড়ুয়া ঘুষের টাকা গণনার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অফিস কক্ষে বসে তিনি হাতে তুলে নিচ্ছেন নগদ অর্থ এবং সেটি গুনছেন।

একইসঙ্গে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে সাফ কথা বলছেন— ‘আবার গিয়ে বলেন দাদা এই কথা বলছে, দেখবেন তখন না বলবে না।’

ভাইরাল ভিডিওতে আরও শোনা যায়, ঘুষ প্রদানকারী ব্যক্তি বলছেন, “এক্সেন স্যার বলছে আমার নাম করে যদি কেউ এক টাকাও চাই, দেবেন না।” জবাবে উজ্জ্বল বড়ুয়া বলেন, “আবার গিয়ে বলেন দাদা এই কথা বলছে...” এরপর ঘুষ প্রদানকারী টাকা বের করে তাঁর হাতে দিলে উজ্জ্বল বড়ুয়াকে সেই টাকা গুনে নিতে দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উজ্জ্বল বড়ুয়া ২০১৭ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় পর্যন্ত কক্সবাজারে একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। তবে বর্তমানে তিনি চুয়াডাঙ্গায় বিলাসবহুল দ্বিতল বাড়ির মালিক। এছাড়াও তাঁর নামে রয়েছে তিনটি ট্রাক, একটি সিএনজি, দুটি দোকান এবং বেশকিছু নামে-বেনামে অর্থবিত্ত।

কক্সবাজারে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে বহুবার। তিনি কক্সবাজার জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের জেলা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত বিল দাবি এবং নির্মাণ সামগ্রীর মান যাচাইয়ে ল্যাব টেস্টে বাড়তি টাকা দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তৎকালীন কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান একপর্যায়ে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগও করেন উজ্জ্বল বড়ুয়ার বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, উজ্জ্বল বড়ুয়া তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঠিকাদারদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিতেন এবং অফিসে আধিপত্য বিস্তার করতেন।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, একজন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা হয়েও এত সম্পদ অর্জন, ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তার চরম দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়, যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত উজ্জ্বল বড়ুয়া বলেন, “ভিডিওতে যাঁদের দেখা যাচ্ছে, তাদের কোনো অভিযোগ আছে? আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে আগ্রহী নই। আমাদের মিডিয়ায় কথা বলা নিষেধ।”

চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মিডিয়ায় বক্তব্য দিতে অনুমতি নিতে হয়। আমি এভাবে কথা বলতে পারব না।”

অভিযোগ ও ভিডিও প্রকাশের পর এখন জনমনে প্রশ্ন— প্রশাসনের নজরে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত বছর ধরে উজ্জ্বল বড়ুয়া তার পদে বহাল থাকলেন? এ ঘটনায় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চমহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।