সারাদেশ

ভালুকায় নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ভাই


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫, ০৩:৪০ পিএম

ভালুকায় নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ভাই
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় একটি ঘর থেকে এক নারী ও তার দুই সন্তানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে ভালুকা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পনাশাইল রোড এলাকার একটি বাড়ি থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সেনের বাজার এলাকার রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ময়না বেগম (২৫), মেয়ে রাইসা (৭) এবং ছেলে নীরব (২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম ভালুকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তিনি ওই বাড়িতে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে ভাড়া থাকতেন। পাশাপাশি একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন রফিকুলের ভাই নজরুল ইসলাম।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে রফিকুল দরজা বন্ধ দেখতে পান। ঘণ্টাখানেক ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি অন্যের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিছানার ওপর স্ত্রী ও দুই সন্তানের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান।

এ সময় চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

ঘটনার পর থেকেই রফিকুলের ভাই নজরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন, যা ঘটনার রহস্য ঘনীভূত করেছে। রফিকুল জানান, “আমি সকালে কাজে গিয়েছিলাম, ফিরে এসে দরজা বন্ধ পাই। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর দরজা ভেঙে দেখি আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানের গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। আমি কিছু বুঝে উঠতে পারছি না।”

বাড়ির মালিক হাইয়ুম মিয়া জানান, দেড় মাস আগে রফিকুল তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে এই বাসায় উঠেছিলেন। ঘটনার সময় তিনি নিজেও কাজে ছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন এবং মর্মান্তিক দৃশ্য দেখেন।

ভালুকা মডেল থানার এসআই মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছি। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তা উদঘাটনে আমরা কাজ করছি। নিখোঁজ নজরুল ইসলামের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।