সারাদেশ
বেনাপোলে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা সেমিনার ও রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেশে ব্যাপক থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বেনাপোল কাস্টমস ক্লাবে এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য ডা. হুমায়ুন কবির, যিনি থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, "থ্যালাসেমিয়া একটি জিনগত রোগ, যা বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৮ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্ম নেয়। এই রোগের ভয়াবহতা প্রতিরোধে শিশু সহ সকলের রক্ত পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ অজান্তেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার।"
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেন সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান, "অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব হলেও উচ্চ খরচ এবং মজ্জাদাতার অভাবে রোগীদের চিকিৎসা সীমিত হচ্ছে। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক চিকিৎসা সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করা অতীব প্রয়োজন।"
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের হেড অব এইচআর অ্যান্ড অপারেশন এবিএম জোনায়েদ থ্যালাসেমিয়ার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে বিস্তারিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়াও ফাউন্ডেশনের চীফ কোঅর্ডিনেটর ডা. সাজিয়া শারমিন রোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সেমিনারের সমাপ্তিতে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রক্তদান কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিতরা স্বেচ্ছায় রক্তদান করে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এই ধরনের উদ্যোগ থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও চিকিৎসা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে বেনাপোলে অনুষ্ঠিত থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা সেমিনার ও রক্তদান কর্মসূচি রোগ প্রতিরোধে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক আকারে পরিচালিত হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।