সারাদেশ

গভীর সমুদ্রে জাহাজে লাফিয়ে উঠল প্রায় তিন মণ ইলিশ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪৩ পিএম

গভীর সমুদ্রে জাহাজে লাফিয়ে উঠল প্রায় তিন মণ ইলিশ
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেল ছাড়িয়ে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের গভীর বঙ্গোপসাগরে এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত জাল পেতে মাছ ধরা হয়, কিন্তু এবার একমাত্র জাহাজেই মাছ ‘উঠে এসেছে’- বৃষ্টির মতো লাফিয়ে লাফিয়ে।

কয়লাবাহী লাইটার জাহাজ এমভি কেএসএল গ্ল্যাডিয়েটর-এর নাবিকরা হঠাৎই এমন একটি অপার্থিব দৃশ্যের সাক্ষী হন। জাহাজের প্রকৌশলী রবিউল হোসেন জানান, প্রায় তিন মণ ইলিশ একসাথে জাহাজের ডেকে লাফিয়ে ওঠে। তিনি ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করে সাংবাদিকদের দেখান।

রবিউল হোসেন বলেন, “গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটির দিকে যাচ্ছিল জাহাজটি। হঠাৎ সাগরের বুক চিরে ছোট ছোট ইলিশের দল জাহাজের দুই পাশ দিয়ে ছুটে আসে। মনে হচ্ছিল, যেন এক ভয়-মিশ্রিত উৎসবে রূপালি মাছের ঝাঁক লাফাচ্ছে। চোখের পলকে আনুমানিক তিন মণ ইলিশ ডেকে ওঠে। আমরা যতটা পারলাম কুড়িয়ে নিলাম, বাকিটা আবার সমুদ্রে পড়ে গেল।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাটি এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল যে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল তুলে ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রের বুকে রুপালি ঝাঁকের আতঙ্ক-ভরা ছুট এবং লাইটার জাহাজের ডেকে আকস্মিক ‘ইলিশ-বৃষ্টি’। নাবিকরা বলছেন, “এ রকম দৃশ্য জীবনে একবারই দেখা যায়।”

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে এই আচরণের পেছনে মূলত শিকারি মাছের তাড়া, জাহাজের আলো এবং শব্দের প্রভাব দায়ী। তাঁর ব্যাখ্যায়, “সমুদ্রে বড় শিকারি মাছ যেমন টুনা বা ম্যাকারেল যখন ইলিশের পালের পেছনে তাড়া করে, তখন আতঙ্কিত ছোট ইলিশেরা জাহাজের আলো বা শব্দের দিকে ছুটে আসে। জাহাজের গা ঘেঁষে পানি সরু হয়ে গেলে তারা ওপরের দিকে লাফিয়ে ডেকে পড়ে, যা একেবারেই অস্বাভাবিক নয়।”

অধ্যাপক রাজীব আরও বলেন, “জাহাজের নেভিগেশন লাইট, ইঞ্জিনের কম্পন বা প্রপেলারের শব্দ অনেক সময় ছোট মাছকে আকৃষ্ট বা বিভ্রান্ত করে। এর ফলে তারা দল বেঁধে জাহাজের খুব কাছে চলে আসে এবং এমন বিরল দৃশ্য তৈরি হয়।”

এভাবেই গভীর সমুদ্রে ঘটে এক মধুর বিস্ময়-যেখানে মাছ নিজের ইচ্ছায় জাহাজের ডেকে লাফিয়ে উঠে, এবং নাবিকদের চোখে বসে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক নাটক।