সারাদেশ

রণক্ষেত্র নরসিংদী, গুলিতে নিহত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

রণক্ষেত্র নরসিংদী, গুলিতে নিহত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী
ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। নিহতের নাম মুস্তাকিম মিয়া (১৪)।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত মুস্তাকিম সৌদি আরবপ্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের নিয়মিত শিক্ষার্থী। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে এরশাদ মিয়া। এই দ্বন্দ্বের জেরে অতীতেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত আটজন গুলিতে নিহত হন এবং বহু বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এর জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে ‘চায়না’র ছোড়া গুলিতে মুস্তাকিম গুরুতর আহত হয়। গুলি তার শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্য আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহত মুস্তাকিমের মা শাহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা কোনো পক্ষের সঙ্গে জড়িত নই। আমার ছেলে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ গুলি এসে ওকে লাগল। আমার নিষ্পাপ ছেলেটাকে যারা মেরেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিমকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।”