সারাদেশ

১২ দিনেও উদ্ধার হয়নি ডেলিভারি ম্যান ফারুক, আতঙ্কিত এলাকাবাসী


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

১২ দিনেও উদ্ধার হয়নি ডেলিভারি ম্যান ফারুক, আতঙ্কিত এলাকাবাসী
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা-র যাদবপুর গ্রামের প্রাণ কোম্পানি-র ডেলিভারি ম্যান ফারুক হোসেন গত ১২ দিন ধরে নিখোঁজ।

রহস্যজনক এই নিখোঁজের ঘটনায় এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকালে ফারুক পণ্য ডেলিভারির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। ডেলিভারি শেষে ফেরার পথে বৈদ্যনাথপুর সড়ক এলাকায় সন্ত্রাসীদের কবলে পড়ে টাকাসহ অপহৃত হন। ওই রাতেই উপজেলার হারদী-কুয়াতলা গ্রামের রাস্তার পাশে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর থেকেই তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। সম্ভাব্য আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়েও কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরিবারের দাবি, বৈদ্যনাথপুর সড়কে আসার পরই তাকে অপহরণ করা হয়েছে। অথচ ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার কিংবা তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। এলাকাবাসীর ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ছে না।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাইল বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।” তবে বাস্তবতা হলো—১০ দিনেও কোনো ফল না আসায় এই বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে পারছেন না ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

মানবাধিকারকর্মী আল আমিন হোসেন পরশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সেখানে একজন ডেলিভারি ম্যান ১০ দিন ধরে নিখোঁজ—এটা শুধু ব্যর্থতা নয়, চরম উদাসীনতার প্রমাণ। দিন দিন আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি নেই। এই নিখোঁজ কোনো একক পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, এটি সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ প্রতিফলন।”

এদিকে বাংলাদেশ বিক্রয় প্রতিনিধি জোট আলমডাঙ্গা শাখার নেতৃবৃন্দও দ্রুত উদ্ধার অভিযান জোরদার ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব হাবিবুর করিম চঞ্চল বলেন, “১০ দিনেও ডেলিভারি ম্যান ফারুকের কোনো খোঁজ না মেলায় প্রশ্ন উঠেছে—প্রশাসন কি আদৌ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে? নাকি অপরাধীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে? এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”