সারাদেশ

সেফ ফুড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেলেন নওগাঁর সোহেল রানা


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

সেফ ফুড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেলেন নওগাঁর সোহেল রানা
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে ‘সেফ ফুড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেয়েছেন মো. সোহেল রানা। তিনি নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার একজন কৃষি উদ্যোক্তা।

শনিবার (৯ মে) ঢাকা-য় বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড (বিএসএসএফ) আয়োজিত ৮ম জাতীয় বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি সোহেল রানার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।

“টেকসই ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুডের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. খালেদ হোসেন-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ সরোয়ার জাহান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর-এর মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)-এর সভাপতি মসিউর রহমান।

উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)-এর সাবেক সদস্য পরিচালক (মৎস্য) ড. মো. মনিরুল ইসলাম। সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুস সালাম।

এছাড়াও ওয়ার্ল্ড ফিশ, হেইফার ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ এবং সিএবি ইন্টারন্যাশনাল (সিএবিআই)-এর প্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা পূরণে বর্তমান বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে গবেষণাকে আরও জোরদার করতে হবে এবং সেই গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, সোহেল রানার মতো উচ্চশিক্ষিত কৃষি উদ্যোক্তাকে সম্মাননা দেওয়ার মাধ্যমে নিরাপদ কৃষি নিয়ে কাজ করা অনেক তরুণ অনুপ্রাণিত হবেন।

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, গবেষক, কৃষিবিদ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ‘সোসাইটি ফর সেফ ফুড’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে তিনটি বৈজ্ঞানিক সেশনে মোট ১৫টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। সেশনগুলোর বিষয়বস্তু ছিল স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি; নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ; এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও মাইক্রোবায়োলজি। বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেশনে ওয়ার্ল্ড ফিশ, হেইফার ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ, সিএবি ইন্টারন্যাশনাল এবং মাশরুমের পুষ্টিগুণ বিষয়ক আরও চারটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলনে প্রায় ৭০টি গবেষণা পোস্টারও প্রদর্শিত হয়।

উল্লেখ্য, সম্মেলনের সহ-আয়োজক ছিল ওয়ার্ল্ড ফিশ, হেইফার ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ, সিএবি ইন্টারন্যাশনাল (সিএবিআই) এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (জিএআইএন)। কনফারেন্সের প্লাটিনাম স্পনসর ছিল ইন্টার এগ্রো বাংলাদেশ, গোল্ড স্পনসর ছিল নারিশ গ্রুপ এবং সিলভার স্পনসর হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে প্যারাগন ডেইরি।