সারাদেশ
ফটিকছড়িতে সদর দপ্তর ইস্যুতে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল, মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় সদর দপ্তর নির্ধারণকে কেন্দ্র করে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করছেন স্থানীয়রা। ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের ডাকে রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়, যার প্রভাবে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ফটিকছড়ি অংশে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
হরতালের সমর্থনে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল এবং টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি, ক্লিনিক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল।
হরতালের কারণে ফেনী-খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক ছাড়াও পেলাগাজি দিঘী-হেয়াঁকো সড়কেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে ২০ থেকে ২৫টি পয়েন্টে পিকেটিং, মিছিল ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও ভাঙচুর বা সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শাহাদাত হোসাইন অভিযোগ করেন, অনিয়মের মাধ্যমে উপজেলার সদর দপ্তর ভুজপুর মৌজায় স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “উপজেলার নাম ফটিকছড়ি উত্তর হলে সদর দপ্তরও উত্তরাঞ্চলেই হওয়া উচিত। দাবি না মানলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।”
অন্যদিকে জসিম উদ্দিন বলেন, কাছাকাছি এলাকায় দুটি উপজেলা সদর স্থাপন যৌক্তিক নয় এবং এতে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। সাধারণ মানুষের সুবিধা বিবেচনায় সদর দপ্তর স্থানান্তরের দাবি জানান তিনি।
এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।