সারাদেশ

গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর–মহিমাগঞ্জ সড়কে খানাখন্দে চরম দুর্ভোগ, দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:১৩ পিএম

গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর–মহিমাগঞ্জ সড়কে খানাখন্দে চরম দুর্ভোগ, দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম দুটি সড়ক গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ এবং কোচাশহর–ফাঁসিতলা সড়ক বর্তমানে বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কগুলোর কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও গর্তের। ফলে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও যানবাহনচালক চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

কোচাশহর চারমাথা মোড় থেকে ফাঁসিতলা বাজার পর্যন্ত এবং গোবিন্দগঞ্জ থেকে মহিমাগঞ্জ পর্যন্ত এই দুইটি সড়ক উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মহিমাগঞ্জ হয়ে বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুরগামী বহু যানবাহন বিকল্প রুট হিসেবে এই সড়ক ব্যবহার করে থাকে। তাছাড়া ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক থেকে মহিমাগঞ্জ হয়ে সাঘাটা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্যও এই সড়ক দুটি ব্যবহৃত হয়।

তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে, তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। বর্ষার সময় সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে চলাচল হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিনই সড়কের খানাখন্দে আটকে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে ছোট-বড় যানবাহন, আহত হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ—সড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা ঘরবাড়ি ও দোকানপাটের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এলজিইডির মাধ্যমে কয়েক বছর আগে সড়ক দুটি সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় বর্তমানে সড়কগুলো একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হক জাহিদ বলেন, “আমরা সড়ক দুটির সংস্কারের দাবি জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে।”

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল চৌধুরী বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই এই সড়কগুলো সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে তুলব।”

এলাকার ভুক্তভোগী জনগণ জানিয়েছেন, এই দুইটি সড়ক উপজেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগের প্রাণশক্তি। তাই অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সড়কগুলো সংস্কার করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।