সোশ্যাল মিডিয়া
এবার কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিমকে গ্রেফতারের দাবি
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যা মামলায় ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ— সিআইডি। এরপর নতুন করে আলোচনায় এসেছে আরেক জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরীর নামও।
আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততায় থেকে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণসহ জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার এমন অভিযোগ ছিলো আগে থেকেই । এবার তাকে গ্রেফতারের দাবিতে ফেসবুকে সরব হচ্ছেন অনেকে । ঢাকা ১৩ আসনের সাবেক এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে ছবি ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নতুন করে তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে ।
অনেকে বলছেন, এখনো এই সব আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দোসররা কীভাবে ঢাকায় ঘুরে বেড়ায়? অচিরেই জুলাইয়ের গণহত্যায় তার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়ে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান তারা।
সৈয়দ আহনাফ তাজওয়ার নামে একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণকারী ফাহিম ছিল আওয়ামী লীগের কর্মী এবং মোহাম্মদপুরের ২৭ নাম্বার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা মোহাম্মদপুরের দখলবাজ তারিকুজ্জামান রাজিবের স্নেহভাজন ও ঢাকা ১৩ আসনের সাবেক এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক এর আস্থাভাজন তাদের ২ জন এর ছত্রছায়ায় থেকে মোহাম্মদপুরে কিশোরগ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে আসতো এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর খ্যাত আর এস ফাহিম। সে সময় মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের প্রতিটি মিছিল মিটিংয়ে এই ফাহিম বাইক শোডাউন ও ছেলেপেলে দিয়ে সাহায্য করতো। এখনো এই সব আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দোসররা কীভাবে ঢাকায় ঘুরে বেড়ায়? অচিরেই এই সব আওয়ামী লীগের দোসরদের গ্রেপ্তারের আহ্বান জানাচ্ছি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের নিকট।
July Revolutionary Alliance - JRA নামে এক পেজ থেকে পোস্টে করে বলা হয়েছে, RS Fahim Chowdhury সমাচার। নিজেকে বিপ্লবের পক্ষের দাবি করা এই ফাহিম বিগত সরকারের গণহত্যাকারী সবার সাথে ছিল আঁতাত। যারা প্রত্যেকে জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িত। নানক এর পিএস সরাসরি গুলি চালিয়েছে , রাজিব সরাসরি নিজে গুলি চালিয়েছে। যাদের সাথে ফাহিম চলাফেরা করতো সবাই মাফিয়া , জঙ্গি , অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। ছেলেপেলে নিয়ে শোডাউন দিয়ে নেতাদের খুশি করতো ফাহিম। বসুন্ধরার আনভির এর জন্মদিনেও খুনি রাজিবের সাথে শো ডাউন দিয়েছিল। এই রাজিবের সাথেই কথোপকথনে জুলাইয়ে গুলি চালানো নিয়ে হাস্যরস করেছিল ফাহিম। জুলাইয়ে তার ভূমিকা তদন্তের বিষয়। তবে সে আওয়ামী সুবিধাভোগী এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহের অবকাশ নাই।
দ্য রেড জুলাই পেজ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, RS ফাহিম চৌধুরি নিজেকে বিপ্লবের সমর্থক দেখানো ফাহিম সত্যি বলতে হাসিনা সরকারের গণহত্যাকারীদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ছিল। যারা প্রত্যেকে জুলাইয়ের গণহত্যায় জড়িত—নানকের পিএস জুলাইয়ে গুলি চালিয়েছিল, রাজিব নিজে সরাসরি গুলি চালিয়েছে।
ফাহিম যে সঙ্গে ঘুরত, সবাই মাফিয়া, জঙ্গি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। ছেলেপেলে নিয়ে শোডাউন দিয়ে নেতাদের খুশি করাতো ফাহিম। বসুন্ধরার আনভিরের জন্মদিনেও খুনি রাজিবের সঙ্গে ফাহিম শোডাউনেও ছিল।
রাজিবের সঙ্গে কথোপকথনে জুলাইয়ে ছাত্রদের উপর গুলি চালানো নিয়ে হাস্যরসও করেছিল এই ফাহিম।
জুলাইয়ের গণহত্যায় তার ভূমিকা তদন্তের বিষয়। তবে সে যে আওয়ামী লীগের খাঁটি দোসর সে হিসেবে তার কোনো সন্দেহ নেই।
এরআগে, গত বছরের আগস্টে একটি অডিও কল রেকর্ড ভাইরাল হয়। যেখানে শোনা যায় আর এস ফাহিম ফোনের অপর পাশে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে ফোনালাপে তার বড় ভাই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব শিক্ষার্থীদেরকে কীভাবে বাড়ির ছাদ থেকে গুলি করছে তার বর্ণনা দেন। এ ঘটনাটি নিয়ে ফাহিমকে এসময় হাসাহাসিও করতে শোনা যায়।
তবে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট আর এস ফাহিম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি বলেছিলেন, আমাকে নিয়ে ইতোমধ্যে একটি কন্ট্রোভার্সি তৈরি হয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে আন্দোলনের সময় আমি শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলাম না। যে কল রেকর্ডটি ভাইরাল হয়েছে সেখানে শুধুমাত্র আমার কথাগুলোই শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কলে তো দুজন মানুষের কথোপকথন হয়। কলের অপর পাশে ছিল তৌহিদ উদ্দিন আফ্রিদি। যেহেতু তার কথাগুলো বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আমার কথাগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সেহেতু বলাই যায় আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।