খেলা
পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে মুস্তাফিজ এখন বিশ্বসেরা দশে
শেষ ওভারে প্রয়োজন ১৩ রান। বাংলাদেশের সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি, আর প্রতিপক্ষে পাকিস্তান। এমন চাপের মুহূর্তে মুস্তাফিজুর রহমান হাতে নিলেন বল। প্রথম বলেই চার খেলেন, অনেকের বুকেই ধুকধুক শুরু হয়ে গেল। কিন্তু পরের বলেই যেন জাদু! পাকিস্তানের ব্যাটার আহমেদ দানিয়ালকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে এনে দিলেন সেই কাঙ্ক্ষিত সিরিজ জয়।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এই প্রথম পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। আর সেই ইতিহাস গড়ার ম্যাচেই মুস্তাফিজ ছিলেন নায়ক। ম্যাচ শেষে চোখে পানি পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের, আর সারা দেশজুড়ে মুস্তাফিজ বন্দনা।

তবে মাঠের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স শুধু জয়ই এনে দেয়নি, নিয়ে এসেছে আরও একটি প্রাপ্তি। আজ আইসিসির প্রকাশিত নতুন টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে মুস্তাফিজ উঠে এসেছেন সেরা দশে। ১৭ ধাপ এক লাফে এগিয়ে তিনি এখন ভারতের আর্শদীপ সিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ৯ নম্বরে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচেই মুস্তাফিজ গড়েছিলেন রেকর্ড—বাংলাদেশের হয়ে চার ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে দুটি উইকেট। এত কম রানে চার ওভার বোলিং করে আগেও কেউ সফল হননি। দ্বিতীয় ম্যাচেও বোলিং কোটা পূরণ করে দলের জন্য ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক।
তবে মুস্তাফিজ একা নন, তার সঙ্গে আরও কয়েকজন তরুণ টাইগার ক্রিকেটার নিজেদের জানান দিয়েছেন র্যাংকিংয়ে। ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো তানজিদ হাসান তামিম ১৮ ধাপ এগিয়ে এখন বাংলাদেশের সেরা ব্যাটার হিসেবে আছেন ৩৭ নম্বরে। ম্যাচসেরা ইনিংস খেলা জাকের আলি অনিকও বড় লাফ দিয়ে উঠে এসেছেন ৫৪ নম্বরে। তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ ইমন, শেখ মেহেদী, শরীফুল—প্রায় সবাইকেই র্যাংকিংয়ে উন্নতি করতে দেখা গেছে।

বোলিং, ব্যাটিং, অলরাউন্ডার—সব বিভাগেই টাইগারদের এই উত্থান যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে নতুন প্রজন্মের হাত ধরে। মাঠে যেমন আত্মবিশ্বাস, তেমনি র্যাংকিংয়েও ধাপে ধাপে এগিয়ে চলার ইঙ্গিত।
আর মুস্তাফিজ? তিনি যেন আবারও মনে করিয়ে দিলেন, চাপের সময়েই সত্যিকারের তারকারা জ্বলে ওঠেন। কাটারে কাটা পড়ে পাকিস্তান, আর মুস্তাফিজ উঠে আসেন বিশ্বসেরা বোলারদের তালিকায়।