খেলা

৪৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে চিটাগং কিংসকে, বিপিএল ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৫:১৬ পিএম

৪৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে চিটাগং কিংসকে, বিপিএল ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
ছবি: সংগৃহীত

বিপিএলের পুরোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি চিটাগং কিংসের কাছে ৪৬ কোটি টাকার বেশি বকেয়া পাওনা রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। বছর ধরে চলা আরবিট্রেশন ও আইনি লড়াইয়ে এবার বোর্ড আরও কঠোর অবস্থানে গেছে।

সম্প্রতি চিটাগং কিংসের মালিক এস.কিউ স্পোর্টস এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার সামির কাদের চৌধুরীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দাবিনামা পাঠিয়েছে বিসিবি।

২২ জুলাই পাঠানো আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, সামির কাদেরকে ৩৭ লাখ ৮২ হাজার ১৫৬ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে, যার টাকার অঙ্ক প্রায় ৪৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরলে)।

২০১২ ও ২০১৩ মৌসুমে বিপিএলে অংশ নেয় চিটাগং কিংস। সেই সময় দলটির হয়ে খেলা দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের সম্মানী পরিশোধে ব্যর্থ হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। বাধ্য হয়ে সেই অর্থ দিতে হয় বিসিবিকে। এরপর থেকে বিসিবি বারবার টাকা ফেরতের দাবি জানালেও কোনো সদুত্তর পায়নি। এমনকি, ১০ বার নোটিশ দেওয়ার পরও চুপ থাকায় বিসিবি শেষমেশ আরবিট্রেশনে যায়।

বছরের পর বছর ধরে চলা এই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকায় বিসিবিকে মোটা অঙ্কের খরচ বহন করতে হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে ২০২৪ সালে সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে সামির কাদেরের সঙ্গে সাড়ে তিন কোটি টাকায় একটি সমঝোতা হয়। শর্ত ছিল, তিন কিস্তিতে ওই টাকা পরিশোধ করতে হবে ২০২৪ সালের নভেম্বরের মধ্যে।

কিন্তু সামির কাদের সেই প্রতিশ্রুতি রাখেননি। ২০২৫ বিপিএল মৌসুমেও ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আবারও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধে ব্যর্থ হয়। এর প্রেক্ষিতে নতুন বিসিবি প্রশাসন আগের সমঝোতা বাতিল করে পুরো বকেয়া ও সুদসহ নতুন হিসাব অনুযায়ী অর্থ ফেরত চেয়ে নোটিশ পাঠায়।

বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমানের পাঠানো নোটিশে কঠোর ভাষায় বকেয়া আদায়ের দাবি জানানো হয়। এর জবাবে সামির কাদের আইনি পথে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছেন।

তবে বিসিবির একজন পরিচালক বলেন, ‘এখন আর ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। পুরো পাওনা পরিশোধ করতে হবে। তারপর গভর্নিং কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেবে তারা বিপিএলে থাকার যোগ্য কি না।’

চিটাগং কিংসের মালিক সামির কাদের দাবি করেছেন, বিসিবি অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছে। তার ভাষায়, ‘২০২১ সালে আমাকে ৯ কোটি ৮১ লাখ টাকার দাবি জানানো হয়েছিল। পরে সাড়ে তিন কোটিতে সমঝোতা হয়। এখন সুদের ওপর সুদ ধরে ৪৬ কোটি টাকা চাওয়া হচ্ছে, এটা তো অবাস্তব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কিন্তু অন্যদের মতো চুপ করে থাকিনি। সমঝোতার চেষ্টা করেছি। আশা করছি বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় একটা সমাধান হবে এবং চিটাগং কিংস বিপিএলে খেলার সুযোগ পাবে।’

তবে বিসিবির ভিন্ন সুর— সময় আর বাড়ানো হবে না। এখন বোর্ডের সিদ্ধান্ত, টাকা না দিলে বিপিএলে জায়গা নেই।