খেলা
মেসির জাদুতে চোখ ধাঁধানো জয়, আর্জেন্টিনা উড়ছে বিশ্বকাপের পথে
আর্জেন্টিনার বুকে যেন উৎসবের আগুন! বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ হোম ম্যাচে লিওনেল মেসির জাদুকরি পারফরম্যান্সে ভেনেজুয়েলাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বল, পাস, ড্রিবল সব কিছুতেই মেসি যেন আবার প্রমাণ করলেন, কেন তিনি যুগের সেরা।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোরে বুয়েনোস আইরেসের স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

চারদিক থেকে ‘মেসি! মেসি!’ ধ্বনি। আর সেই গগনচুম্বী চিৎকারের মাঝেই নিজের চেনা ছন্দে ফিরলেন ফুটবল জাদুকর। ম্যাচজুড়ে তার পায়ে ছিল জাদুর ছোঁয়া। নিখুঁত পাস, দারুণ ফিনিশ আর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলার ক্ষমতা সব মিলিয়ে যেন একক মঞ্চায়ন!
ম্যাচের ৩৯ মিনিটে প্রথম গোল। হুলিয়ান আলভারেজের পাস থেকে বক্সে বল পেয়ে যেন সময় থেমে গেল! বলটা মাথার ওপর দিয়ে তুলে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেন মেসি। ক্লাসিক ‘চিপ’ ফিনিশ! যেন আঁকা ছবির মতো গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে নেমে আরও আগ্রাসী আর্জেন্টিনা। ৭৬ মিনিটে বদলি হয়ে নামা লাওতারো মার্টিনেজ দুর্দান্ত এক হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৮০ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার পাস থেকে কাছ থেকে শট নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। ভেনেজুয়েলা তখন পুরোপুরি ছন্নছাড়া। পুরো ম্যাচে একটাও অন টার্গেট শট নিতে পারেনি তারা।
ম্যাচ শেষে আবেগে ভাসলেন মেসি নিজেও। বললেন, “এটা আমার জন্য অনেক স্পেশাল ম্যাচ। কারণ এটা আর্জেন্টিনার মাঠে আমার শেষ বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচ। জানি না এরপর আর কটি খেলতে পারব। পরিবার সবাই গ্যালারিতে ছিল, এটা অনেক বড় প্রাপ্তি।"
জাতীয় দলের হয়ে দুই দশকের ক্যারিয়ারে ১৯৩ ম্যাচে ১১২ গোল। কোপা আমেরিকা, অলিম্পিক স্বর্ণপদক, বিশ্বকাপ—সব জিতে ফুটবলের মহাকাশে নিজের নাম লিখে ফেলেছেন মেসি। ম্যারাডোনার পর আর্জেন্টিনার ফুটবলে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম যে তিনিই, সেটা নিয়ে এখন আর কারও দ্বিমত নেই।

কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচ শেষে বলেন, “মেসি যতদিন খেলবে, ততদিন ওকে উপভোগ করতে হবে। কিন্তু একসময় আর্জেন্টিনাকে মেসিকে ছাড়াও খেলতে হবে, এটা মেনে নিতেই হবে। তবে সেই সময় এখনও আসেনি।”
ইতোমধ্যে কাতারজয়ী আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে। ১৬ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে লাতিন অঞ্চলের বাছাইপর্বে তারা রয়েছে সবার ওপরে। বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে ইকুয়েডরের, ১০ সেপ্টেম্বর।