খেলা
ম্যারাডোনার ‘হাত দিয়ে’ গোল করা মাঠেই হচ্ছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে আবেগ ও গৌরবের এক অনন্য মঞ্চ হয়ে আবারও সামনে আসছে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়াম। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই ভেন্যুতেই, যা প্রথমবারের মতো তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে।
ফুটবল ইতিহাসে এস্তাদিও আজতেকা শুধু একটি স্টেডিয়াম নয়, বরং এক জীবন্ত কিংবদন্তি। এই মাঠের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দুই মহাতারকা পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনার অমর স্মৃতি। দুজনই তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় বিশ্বকাপ জয় করেছেন এই মাঠে।
বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এই স্টেডিয়ামকে এনে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে গোলশূন্য অবস্থায় ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে লাফিয়ে উঠে ম্যারাডোনা বাম হাত দিয়ে বল জালে পাঠান। রেফারি তা বুঝতে না পারায় গোলটি বৈধ হিসেবে গণ্য হয়।
এর কিছুক্ষণ পরই ম্যারাডোনা অসাধারণ ড্রিবলিং দক্ষতায় একক প্রচেষ্টায় আরেকটি গোল করেন, যা ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃত। সেই ম্যাচ জয়ের পথ ধরে আর্জেন্টিনা ফাইনালে পৌঁছে এবং পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে।
এই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সম্মান জানাতে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনাকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ‘ক্লারিন’-এর তথ্য অনুযায়ী ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ এ খবর প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের বহু স্মরণীয় ম্যাচ আয়োজন করেছিল এস্তাদিও আজতেকা। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে এই স্টেডিয়াম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের ‘হ্যাটট্রিক’ গড়তে যাচ্ছে।