খেলা

গুগলে ‘চোরের দল’ লিখলেই আসছে আর্জেন্টিনার নাম, কারণ কী?


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

গুগলে ‘চোরের দল’ লিখলেই আসছে আর্জেন্টিনার নাম, কারণ কী?
ছবি: সংগৃহীত

গুগলে ‘চোরের দলের ফুটবল খেলা কবে’ লিখে খুঁজলে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনাল ম্যাচের তথ্য দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এটি গুগলের আনুষ্ঠানিক কোনো নামকরণ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশনা, ছবি, ভিডিও ও লেখায় আর্জেন্টিনা দলকে উদ্দেশ্য করে ‘চোরের দল’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে গুগলের অনুসন্ধান পদ্ধতি ওই শব্দগুচ্ছের সঙ্গে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের সম্পর্ক তৈরি করে সংশ্লিষ্ট ফলাফল দেখাচ্ছে।

এই ব্যঙ্গের পেছনে রয়েছে ফুটবল ইতিহাসের বহুল আলোচিত একটি ঘটনা। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সেই ম্যাচটি শুধু ফুটবলের লড়াই ছিল না; এর সঙ্গে রাজনৈতিক ও আবেগঘন বাস্তবতাও জড়িয়ে ছিল। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার চার বছর আগে, ১৯৮২ সালে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। ওই যুদ্ধে আর্জেন্টিনা পরাজিত হয়। ফলে মাঠের লড়াই দুই দেশের মানুষের কাছে বাড়তি গুরুত্ব বহন করেছিল।

ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনা দুটি স্মরণীয় গোল করেন। ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় স্টিভ হজের ভুলে বল নিজেদের গোলমুখের দিকে চলে গেলে ম্যারাডোনা ও গোলরক্ষক পিটার শিলটন একসঙ্গে বলের দিকে এগিয়ে যান।

উচ্চতায় পিছিয়ে থাকলেও ম্যারাডোনা বাম হাত দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন। তিউনিসিয়ার রেফারি আলি বিন নাসের ঘটনাটি দেখতে না পাওয়ায় গোলটি বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা রসিকতা করে বলেছিলেন, গোলটি হয়েছিল ‘কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে, আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ এরপর থেকেই সেই গোলটি ফুটবল ইতিহাসে ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে পরিচিতি পায়। এ ঘটনার জের ধরে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনাকে ব্যঙ্গ করে বিভিন্ন নামে উল্লেখ করে আসছে।

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আবারও সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হওয়ায় পুরোনো সেই বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশনা ছড়িয়ে পড়ার পর ‘চোরের দলের খেলা কবে’ লিখে অনুসন্ধানের প্রবণতাও বেড়েছে।

তবে ‘চোরের দল’ কোনো সরকারি, আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা কিংবা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের দেওয়া নাম নয়। এটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত একটি ব্যঙ্গাত্মক শব্দ, যা অনলাইনে ব্যাপক প্রচারের কারণে গুগলের অনুসন্ধান ফলাফলে উঠে এসেছে।

মূলত বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থকদের পারস্পরিক ঠাট্টা-বিদ্রূপের অংশ হিসেবেই এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়। তাই এটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক পরিচয় বা ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।