খেলা
র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল কখনও বিশ্বকাপ ট্রফি জেতেনি, আর্জেন্টিনা কী এবার পারবে?
আধুনিক ফিফা র্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি অদ্ভুত পরিসংখ্যান চোখে পড়ে টুর্নামেন্ট শুরুর সময় র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা কোনো দলই শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি। ১৯৯২ সালে এই র্যাঙ্কিং পদ্ধতি চালুর পর থেকেই এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
চলমান বিশ্বকাপের শুরুতে এক নম্বরে ছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। মাঝপথে শীর্ষস্থান হারালেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি আবারও র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
এতে করে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপূরণের পথে আর্জেন্টিনার সামনে দাঁড়িয়েছে নতুন এক চ্যালেঞ্জ ভাঙতে হবে ‘এক নম্বর দলের অভিশাপ’। ফাইনালে স্পেন জাতীয় ফুটবল দলকে হারাতে পারলে শুধু শিরোপা ধরে রাখাই নয়, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল হিসেবেও বিশ্বকাপ জয়ের নজির গড়বে তারা।
অবশ্য সমর্থকদের জন্য স্বস্তির জায়গাও আছে। সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল, কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া জাতীয় ফুটবল দলর কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। অন্যদিকে এবারের আসরে আর্জেন্টিনা এখনও অপ্রতিরোধ্য, জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে।
আগামী রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মহারণ। সেখানে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দলের ‘অভিশাপ’ ভাঙবে কি না।
ইতিহাস বলছে, অতীতের বিশ্বকাপগুলোতে শীর্ষে না থাকা দলই বেশি সফল। ১৯৯২ সালে র্যাঙ্কিং চালুর পর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন জার্মানির অবস্থান ছিল তিনে। এরপর ২০১০ সালে স্পেন ছিল দুইয়ে, ২০১৪ সালে জার্মানি দুইয়ে, ২০১৮ সালে ফ্রান্স সাতে এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা তিনে থেকে শিরোপা জেতে।
এবারের আসরে আরও একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলই জায়গা করে নিয়েছে সেমিফাইনালে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ থেকে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে রিয়েল-টাইম পদ্ধতি চালু হয়েছে। ম্যাচের ফলাফল ও গোল ব্যবধান অনুযায়ী নিয়মিত পরিবর্তন হচ্ছে র্যাঙ্কিং, যার ফলে টুর্নামেন্ট চলাকালীনও শীর্ষ অবস্থানে একাধিকবার পরিবর্তন দেখা গেছে।