খেলা

ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার জোড়া গোলে আলাভেসকে ৬-১ গোলে হারিয়ে শীর্ষে বার্সা


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার জোড়া গোলে আলাভেসকে ৬-১ গোলে হারিয়ে শীর্ষে বার্সা
ছবি: সংগৃহীত

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির কাছে এবং লা লিগার এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে কিছুটা চাপে ছিল বার্সেলোনা। স্প্যানিশ লিগের পয়েন্ট টেবিলেও হারিয়েছিল শীর্ষস্থান। তবে আলাভেসকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে আবারও শীর্ষে ফিরেছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। বড় জয়ে দলের দুই তারকা লামিনে ইয়ামাল ও রাফিনিয়া করেছেন জোড়া গোল।

ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে শুরু থেকেই আলাভেসের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে বার্সেলোনা। ম্যাচে ৭৭ শতাংশ বলের দখল রেখে লক্ষ্যে সাতটি শট নেয় স্বাগতিকরা। বিপরীতে আলাভেস লক্ষ্যে রাখতে পারে মাত্র তিনটি শট। বার্সার হয়ে দুটি করে গোল করেন ইয়ামাল ও রাফিনিয়া। এ ছাড়া একটি করে গোল করেন ফারমিন লোপেজ ও অ্যান্থনি গর্ডন। আলাভেসের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মারিয়ানো দিয়াজ।

গতকাল শনিবার লা লিগার দিনের প্রথম ম্যাচে লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারিয়ে সাময়িকভাবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছিল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। তবে বার্সেলোনার বড় জয়ে সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি তারা। ১১ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ফিরেছে কাতালান ক্লাবটি। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অ্যাতলেটিকো। এক ম্যাচ কম খেলে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়ার গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। পেদ্রির বাড়ানো বল ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে সহজেই জালে পাঠান তিনি। তিন মিনিট পর পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি আলাভেসের আবদে রেবাখ। এরপর সফরকারীদের আরও দুটি আক্রমণ প্রতিহত করে বার্সার রক্ষণভাগ।

২৩ মিনিটে ইয়ামালের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফারমিন লোপেজ। ডান দিকের দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া তার শট ঠেকাতে পারেননি আলাভেস গোলরক্ষক। চলতি মৌসুমে ক্লাবের হয়ে এটি লোপেজের ষষ্ঠ গোল।

৩২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন রাফিনিয়া। তবে ফাঁকা জায়গা পেয়েও তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪১ মিনিটে আর ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। লোপেজের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। চলতি লা লিগায় ১০ ম্যাচে এটি তার ১৫তম গোল।

বিরতির আগে যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ান ইয়ামাল। জোয়াও কানসেলোর পাস পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এই স্প্যানিশ তরুণ।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে বার্সেলোনা। ৫৬ মিনিটে করিম আদেয়েমি গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। তার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬২ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামার দুই মিনিট পরই গোলের সুযোগ তৈরি করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। তার পাস থেকে বল পেয়ে আলাভেস গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল। চলতি লা লিগায় ১১ ম্যাচে এটি তার দশম গোল।

৭৪ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ইংলিশ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন। মাঠে নামার সাত মিনিটের মাথায় রদ্রির পাস পেয়ে প্রতিপক্ষের অর্ধে এগিয়ে গিয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এতে বার্সেলোনার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ছয়ে।

ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আলাভেসের হয়ে সান্ত্বনাসূচক গোল করেন মারিয়ানো দিয়াজ। তবে তাতে ম্যাচের ফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ৬-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা এবং পুনরুদ্ধার করে লা লিগার শীর্ষস্থান।